ইসলামি জীবনদর্শনে আমানতদারিকে ইমানের অন্যতম প্রধান মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। আমানত কেবল গচ্ছিত সম্পদ ফেরত দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অর্পিত দায়িত্ব ও কর্তব্য সঠিকভাবে পালন করাই এর মূল শিক্ষা।
আল্লাহর রাসুল (সা.) খুতবায় বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, “যার আমানতদারি নেই তার ইমান নেই, আর যার অঙ্গীকারের ঠিক নেই তার ধর্ম নেই।” পবিত্র কোরআনেও মুমিনদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, জেনে–শুনে আল্লাহ, তাঁর রাসুল এবং পরস্পরের আমানতের সঙ্গে খেয়ানত না করতে।
ইসলামে আমানতের পরিধি অত্যন্ত বিস্তৃত। নেতৃত্ব নির্বাচন, গোপনীয়তা রক্ষা, শরীর ও স্বাস্থ্যের যত্ন, দাম্পত্য সম্পর্ক এবং সন্তানের লালন–পালন—সবই আমানতের অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রীয় বা সামাজিক পর্যায়ে ভোট প্রদান থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত আলাপচারিতার গোপনীয়তা রক্ষা—সব ক্ষেত্রেই আমানতদারির পরীক্ষা হয়।
শরীরও মানুষের কাছে আল্লাহর দেওয়া একটি বড় আমানত। বেপরোয়া আচরণ, নেশাদ্রব্য গ্রহণ বা নিজের ক্ষতি ডেকে আনা এই আমানতের খেয়ানতের শামিল। একইভাবে বিবাহের মাধ্যমে স্বামী–স্ত্রী একে অপরের সম্মান ও অধিকার রক্ষার আমানত গ্রহণ করে। সন্তানদের নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষায় গড়ে তোলাও মা–বাবার ওপর অর্পিত বড় দায়িত্ব।
ইসলামের শিক্ষা হলো, কেউ খেয়ানত করলেও তার জবাবে খেয়ানত করা যাবে না। আমানত রক্ষা করা কেবল ব্যক্তিগত গুণ নয়; বরং একটি নিরাপদ ও সুস্থ সমাজ গঠনের মৌলিক ভিত্তি। আমানতদারির মাধ্যমেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং কেয়ামতের দিন লাঞ্ছনা থেকে মুক্তির পথ প্রশস্ত হয়।
সিএ/এমআর


