দীর্ঘ সময় পর ময়মনসিংহ জেলার সংসদীয় রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেল বিএনপি। সাম্প্রতিক নির্বাচনে জেলার ১১টি আসনের মধ্যে ৮টিতে জয়ী হয়েছেন দলটির প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ অংশ না নেওয়ায় ভোটের মাঠে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এবং দলটিরই একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যেও ধানের শীষের প্রার্থীরা বেশ কয়েকটি আসন পুনরুদ্ধারে সক্ষম হন।
স্বাধীনতার পর ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির একতরফা নির্বাচন বাদ দিলে ময়মনসিংহ-১০ ও ১১ আসনে বিএনপি মাত্র একবার করে জয় পেয়েছিল। দীর্ঘদিন এসব আসনে আওয়ামী লীগের আধিপত্য থাকলেও এবারের ভোটে চিত্র বদলেছে। পাশাপাশি ১৯৯১ সালের পর ময়মনসিংহ-৭, ১৯৯৬ সালের পর ময়মনসিংহ-৩ এবং ২০০১ সালের পর ময়মনসিংহ-৪, ৫, ৮ ও ৯ আসনে ফের জয় পেল বিএনপি।
ময়মনসিংহ-১০ ও ১১: দীর্ঘ খরা কাটিয়ে জয়
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে প্রথমবার নির্বাচন করেই জয় পান বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান। তিনি ৭৫ হাজার ৫৮৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান পান ৬৭ হাজার ১৩ ভোট। ১৯৭৯ সালের পর প্রায় ৪৭ বছর পরে এ আসনে বিএনপির জয় এলো। নির্বাচনের পর কৃষিনির্ভর এলাকাকে শিল্পাঞ্চলে রূপান্তরের ঘোষণা দেন বিজয়ী প্রার্থী।
ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে ৩৫ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটান ফখর উদ্দিন আহমেদ। তিনি ১ লাখ ১১ হাজার ২৩০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর আগে ২০০৮ ও ২০১৮ সালে পরাজিত হলেও এবার তিনি স্পষ্ট ব্যবধানে জয়ী হন।
মধ্যাঞ্চলের আসনগুলোতেও সাফল্য
ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে ৩৫ বছর পর জয়ী হন চিকিৎসক মো. মাহবুবুর রহমান। তিনি ৯৯ হাজার ৪৯ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মো. আছাদুজ্জামান পান ৮৪ হাজার ৮৫১ ভোট।
ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে দীর্ঘ ৩০ বছর পর বিএনপি প্রার্থী এম ইকবাল হোসেইন ৭৫ হাজার ৩২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এর আগে দুই দফা নির্বাচন করে তিনি পরাজিত হয়েছিলেন।
সদর ও পার্শ্ববর্তী আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ জয়
ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে ২০০১ সালের পর আবারও বিএনপি জয় পায়। বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী পান ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৮০ ভোট।
ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে ২০০১ সালের পর জয়ী হন মোহাম্মদ জাকির হোসেন। তিনি ১ লাখ ২৮ হাজার ৮৯৬ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত নেতা মতিউর রহমান আকন্দ পান ১ লাখ ২ হাজার ২২৬ ভোট।
রেকর্ড ব্যবধানে ও পারিবারিক ধারাবাহিকতা
ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনে ২৫ বছর পর বিএনপির প্রার্থী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ রেকর্ড ৬২ হাজার ১৭০ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন। তিনি মোট ১ লাখ ৮ হাজার ৬৮৫ ভোট পান।
ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে পারিবারিক ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২৫ বছর পর জয়ী হন ইয়াসের খান চৌধুরী। তিনি ৮৫ হাজার ৭৬১ ভোট পান। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির চেয়ারম্যান এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম পান ৭১ হাজার ১৬৮ ভোট।
সামগ্রিকভাবে, দীর্ঘ বিরতির পর ময়মনসিংহে বিএনপির এই সাফল্য দলটির জন্য সাংগঠনিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।
সিএ/এমআর


