সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসন নিশ্চিত করে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে বিএনপি জোট। অন্যদিকে ৭৭টি আসন পেয়ে সংসদের প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় বসতে যাচ্ছে জামায়াত জোট। নতুন সংসদ গঠনের এই পর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতার দায়িত্ব ও মর্যাদা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে।
সংসদীয় গণতন্ত্রে বিরোধীদলীয় নেতার পদ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি কেবল একটি দলের নেতা নন, বরং সরকারের কর্মকাণ্ডে জবাবদিহি নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। সংসদে সরকারের নীতিনির্ধারণ, আইন প্রণয়ন ও প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডের গঠনমূলক সমালোচনা করাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব।
২০২১ সালে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া বিরোধীদলীয় নেতা এবং উপনেতা পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার আইন অনুযায়ী বিরোধীদলীয় নেতা একজন পূর্ণ মন্ত্রীর সমান বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পান। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বাসভবন, নিরাপত্তা প্রটোকল, সরকারি গাড়ি এবং চিকিৎসা ও ভ্রমণ সুবিধা। বিরোধীদলীয় উপনেতা পান একজন প্রতিমন্ত্রীর সমমানের সুবিধা।
নির্বাচনের ফলাফলের ভিত্তিতে সংসদের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাওয়া দল বা জোট তাদের সংসদীয় দলের বৈঠকে নেতা নির্বাচন করে। পরে স্পিকার সেই মনোনয়নকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেন। সংসদে বিরোধী দলকে বিকল্প সরকার হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। তাদের ভূমিকার মধ্যে রয়েছে জনস্বার্থ তুলে ধরা, আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া এবং ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা করা।
ত্রয়োদশ সংসদে বিরোধী দল এই সাংবিধানিক দায়িত্ব কতটা কার্যকরভাবে পালন করতে পারে, সেটিই এখন রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের আলোচনার বিষয়।
সিএ/এমআর


