অস্ট্রেলিয়ায় রাষ্ট্রীয় সফরে গিয়ে ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে পড়েছেন ইসরাইলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জোগ। তার সফরকে কেন্দ্র করে সিডনি, মেলবোর্ন ও ক্যানবেরায় হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন। কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে এবং বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) চার দিনের সফরের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছান হার্জোগ। এর পরপরই সিডনির বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে মরিচের স্প্রে ও কাদানে গ্যাস ব্যবহার করে পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দেয়। বিক্ষোভের গতি ঠেকাতে শহরজুড়ে প্রায় ৩ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
বিক্ষোভকারীরা টাউন হল থেকে নিউ সাউথ ওয়েলস পার্লামেন্ট পর্যন্ত মিছিলের চেষ্টা করলে পুলিশ বাধা দেয়। আদালত আগেই প্যালেস্টাইন অ্যাকশন গ্রুপের আইনি চ্যালেঞ্জ বাতিল করে বিক্ষোভে সীমাবদ্ধতা আরোপ করে। মেলবোর্ন ও ক্যানবেরা শহরেও একই ধরনের প্রতিবাদ দেখা যায়। স্থানীয় ইহুদি কাউন্সিলের এক হাজারেরও বেশি সদস্য প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজকে হার্জোগের আমন্ত্রণ বাতিলের আহ্বান জানান।
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল অস্ট্রেলিয়া অভিযোগ করে জানায়, হার্জোগের সফর অস্ট্রেলিয়ার ন্যায়বিচারের অঙ্গীকারকে ক্ষুণ্ন করেছে এবং গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য তিনি উসকানিমূলক ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করে সমালোচকরা।
চার দিনের সফর শুরু করেন তিনি সিডনির বন্দাই বিচে, যেখানে গত বছরের ডিসেম্বরে হানুক্কা অনুষ্ঠানে নিহত ১৫ জনের স্মৃতিতে ফুল অর্পণ করেন। নিহতদের পরিবার এবং বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সঙ্গেও দেখা করেন হার্জোগ। তিনি বলেন, ওই হামলা শুধু ইসরাইল নয়, অস্ট্রেলিয়ার প্রতিও আঘাত।
পরিকল্পিত বিক্ষোভ নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হার্জোগ জানান, তিনি শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বের বার্তা নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এসেছেন। তার মতে, অস্ট্রেলিয়া ও ইসরাইল বহুদিন ধরে ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও মিত্র। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু বিক্ষোভ ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে, যা অস্ট্রেলিয়ার অবস্থানের বিরোধী।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ হার্জোগকে সফরের আমন্ত্রণ জানান। তিনি বলেন, বন্ডি এলাকায় হামলার পর এই সফর সমাজে ঐক্য ও সংহতি আরও জোরদার করবে।
সিএ/এসএ


