যুক্তরাষ্ট্রে ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর মাত্র ১৪ মাসে ষষ্ঠবারের মতো ওয়াশিংটন সফরে গেলেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় তিনি মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে অবতরণ করেন।
ইসরাইলি সংবাদমাধ্যমের তথ্যে জানা গেছে, তার এ সফরের মূল উদ্দেশ্য ইরান–যুক্তরাষ্ট্রের চলমান পারমাণবিক আলোচনা। বুধবার ট্রাম্পের সঙ্গে নেতানিয়াহুর বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে, যেখানে আলোচনার নীতিমালা নিয়ে ইসরাইলের অবস্থান বিস্তারিতভাবে তুলে ধরবেন তিনি।
ওয়াশিংটনে যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের নেতানিয়াহু জানান, আলোচনার নীতিমালার লক্ষ্য হবে ইরানকে পুরোপুরি নিরস্ত্রীকরণে বাধ্য করা এবং তাদের আঞ্চলিক প্রভাব কমানো। তার দাবি, এ পরিকল্পনা ইসরাইলের পাশাপাশি সমগ্র অঞ্চলের শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
এদিকে নেতানিয়াহুর সফরের আগেই যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব আলী লারিজানি বলেন, ইসরাইলের চাপের কাছে যেন ওয়াশিংটন নতি স্বীকার না করে। তিনি মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রকে বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে সিদ্ধান্ত নিতে হবে এবং ইসরাইলি নেতাদের ধ্বংসাত্মক প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকা জরুরি।
বর্তমানে লারিজানি ওমানে অবস্থান করছেন, যেখানে তেহরান–ওয়াশিংটনের পারমাণবিক আলোচনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা আছে। তার সঙ্গে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আল-বুসাইদি এবং সুলতান হাইথাম বিন তারিক আল সাইদেরও বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম বলছে, এই সফরে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ইরান–ওমানের দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ও গুরুত্ব পাবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ওয়াশিংটনের শর্ত না মানলে তেহরানকে কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে। তিনি দাবি করেন, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং অন্যান্য বিতর্কিত ইস্যুতে ইরান যদি সমঝোতায় না আসে, তবে আক্রমণাত্মক পদক্ষেপও নেওয়া হতে পারে। চ্যানেল ১২–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, হয় একটি চুক্তি হবে, না হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ‘খুব কঠিন কিছু’ করতে হবে।
সিএ/এসএ


