একবিংশ শতাব্দীর মানুষ এখন এমন সময়ে বসবাস করছে যেখানে পুরনো ধারণাগুলো নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। মানুষ, জীবন, প্রকৃতি ও মহাবিশ্বকে বোঝার প্রক্রিয়া প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদা। কোনো নির্দিষ্ট আচরণকে একমাত্র সঠিক বা স্ট্যান্ডার্ড বলা যায় না। চিন্তা, শেখা ও আচরণের এই বৈচিত্র্য কোনো অসুস্থতা নয়, বরং মানুষের স্বাভাবিক বৈচিত্র্য।
নিউরোডাইভার্সিটি গবেষণা দেখিয়েছে যে, স্বাভাবিক মস্তিষ্ক বলে প্রকৃত অর্থে কিছু নেই। অটিজম স্পেকট্রাম ডিসঅর্ডার, এডিএইচডি, ডিসলেক্সিয়া ও ডাইস্প্রাক্সিয়া–এর মতো অবস্থা রোগ হিসেবে না দেখিয়ে মস্তিষ্কের স্বাভাবিক ভিন্নতা হিসেবে দেখা উচিত। এক সময় বিজ্ঞান স্বাভাবিক মস্তিষ্কের জয়গান গাইত এবং যাদের মস্তিষ্ক সেই সংজ্ঞায় পড়ত না, তাদের রোগী বা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হতো।
১৯৯০-এর দশকের শেষ দিকে অস্ট্রেলীয় সমাজবিজ্ঞানী জুডি সিঙ্গার নিউরোডাইভার্সিটি শব্দটি প্রবর্তন করেন। তখন থেকেই এই ধারণা গড়ে উঠতে শুরু করে যে, মানুষের মস্তিষ্কের ভিন্নতা রোগ নয়, বরং এটি একটি স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য।
নিউরোডাইভার্সিটি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল স্নায়ুবিকভাবে ভিন্ন মানুষদের গ্রহণযোগ্যতা, সমতা ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা। ইন্টারনেটের কল্যাণে অটিস্টিক ব্যক্তিরা তাদের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ পান এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলেন।
স্পেকট্রামের ধারণার ফলে নিউরোটিপিক্যাল এবং নিউরোডাইভারজেন্ট শব্দগুলো জনপ্রিয় হয়েছে। নিউরোটিপিক্যাল মানে যাদের মস্তিষ্ক সমাজের সাধারণ নিয়মে চলে, আর নিউরোডাইভারজেন্ট মানে যাদের মস্তিষ্ক ভিন্নভাবে কাজ করে। এই ভিন্নধর্মী মস্তিষ্কের সঙ্গে আসে অসাধারণ ক্ষমতা, যেমন গাণিতিক যুক্তিবোধ, সূক্ষ্ম বিষয়ে মনোযোগ এবং প্যাটার্ন শনাক্ত করার দক্ষতা। তবে যুক্তরাজ্যের ব্রাইটন ও সাসেক্স মেডিক্যাল স্কুলের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ জেসিকা একলস সতর্ক করে বলেন, অতিরিক্ত ইতিবাচক হয়ে এর গুরুতর দিকগুলোকে ছোট করা উচিত নয়।
সিএ/এমআর


