আল্লাহ তায়ালা মোমিনদের নেক আমলের প্রতিদান হিসেবে চিরন্তন শান্তি ও স্বস্তির এক অনন্য নিবাস প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার নাম জান্নাত। কেয়ামতের দিন হিসাব-নিকাশ শেষে মোমিনদের সেখানে প্রবেশ করানো হবে। জান্নাত শব্দের আভিধানিক অর্থ বাগান, যেখানে মানুষ প্রশান্তি ও স্বস্তি খুঁজে পায়। সেই কারণেই আখেরাতের শান্তিময় জীবনের উপমা হিসেবে জান্নাতকে বাগানের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, জান্নাতে এমন সব নেয়ামত রয়েছে যা কোনো চোখ দেখেনি, কোনো কান শোনেনি এবং কোনো মানুষের কল্পনাতেও আসেনি। জান্নাতের প্রশস্ততা আসমান ও জমিনের সমান এবং সেখানে একশটি স্তর রয়েছে, যার প্রতিটি স্তরই অপরিসীম বিস্তৃত।
জান্নাতবাসীরা যা কিছু কামনা করবে, মুহূর্তের মধ্যেই তা তাদের সামনে উপস্থিত হবে। খাদ্য, পানীয় কিংবা আরাম—সবই হবে সীমাহীন এবং নিখুঁত। সেখানে কোনো দুঃখ, ক্লান্তি বা অপবিত্রতার অস্তিত্ব থাকবে না। তাদের দেহ থেকে নির্গত সুগন্ধ হবে কস্তুরী ও কর্পূরের চেয়েও সুমধুর।
জান্নাতে থাকবে হীরা-জহরত খচিত সুউচ্চ প্রাসাদ, সোনা ও রুপার ইটে নির্মিত দেয়াল এবং জাফরানে তৈরি ভূমি। জান্নাতবাসীদের জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত হলো আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি এবং তাঁর মহিমান্বিত সত্তার দর্শন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, আল্লাহর দিদারের চেয়ে প্রিয় কোনো নেয়ামত জান্নাতবাসীদের কাছে আর কিছুই হবে না।
কেয়ামতের দিনে কেবল নেককার ও পরহেজগার বান্দারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে। এজন্য মোমিনদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে, দুনিয়াতে সৎকর্মের মাধ্যমে জান্নাত লাভের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতে।
সিএ/এমআর


