পশ্চিম তীরকে ইসরায়েলের সঙ্গে সংযুক্ত বা দখলভুক্ত করার পরিকল্পনার বিরোধিতা পুনর্ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, অঞ্চলটিতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উত্তেজনা প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান অপরিবর্তিত। ইসরায়েলের নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা সম্প্রতি এমন কিছু সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে, যা পশ্চিম তীরে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও জোরদার করবে—যে এলাকা ভবিষ্যৎ ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়া হলো।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তার বিবৃতিতে জানানো হয়, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পশ্চিম তীর সংযুক্তিকরণের বিপক্ষে অবস্থান নেন। ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তগুলো নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওই কর্মকর্তা বলেন, পশ্চিম তীরে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত হলে ইসরায়েলের নিরাপত্তাও জোরদার হবে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকেও সহায়তা করবে। যদিও বিবৃতিতে ইসরায়েলের নেওয়া পদক্ষেপগুলো সম্পর্কে সরাসরি নিন্দা বা পরিষ্কার মন্তব্য নেই। অথচ এসব সিদ্ধান্ত অসলো চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে, যেখানে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে জেরুজালেমের প্রশাসনিক কর্তৃত্ব বাড়ানো হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্পষ্ট প্রতিক্রিয়া নতুন নয়। পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ নিয়ে ইসরায়েলের আগের বিতর্কিত সিদ্ধান্তগুলোর ক্ষেত্রেও ওয়াশিংটন কেবল স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিয়েছিল। দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, তিনি পশ্চিম তীর সংযুক্তির বিষয়ে সমর্থন দিতে পারেন। তবে ইসরায়েলের বাস্তবমুখী উদ্যোগের পর যুক্তরাষ্ট্রের আরব মিত্ররা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানায়। তাদের মতে, এই পদক্ষেপ গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতার আগ্রহ কমিয়ে দিতে পারে এবং দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকেও প্রায় অসম্ভব করে তুলবে।
এই প্রেক্ষাপটে গত সেপ্টেম্বর ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তিনি ইসরায়েলকে পশ্চিম তীর দখল বা সংযুক্ত করতে অনুমতি দেবেন না। তবু পরের মাসে ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট প্রতীকীভাবে সংযুক্তিকরণের পক্ষে দুটি প্রস্তাব পাস করে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে ক্ষুব্ধ করে। বিশেষ করে তখন দেশটিতে সফররত মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
এরপরও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইসরায়েল বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে, যা পর্যবেক্ষকদের মতে কার্যত দখল প্রক্রিয়াকেই শক্তিশালী করছে। যদিও ইসরায়েল এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সংযুক্তির ঘোষণা দেয়নি। গত জানুয়ারির শেষ দিকে নেতানিয়াহু ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে গেলে মার্কিন সহযোগীরা বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা, বসতি সম্প্রসারণ এবং ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কর রাজস্ব আটকে রাখার বিষয়ে উদ্বেগ জানায়। এই অর্থ আটকে থাকায় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ধসের মুখে পড়েছে।
তখন ট্রাম্প স্বীকার করেন যে, পশ্চিম তীর ইস্যুতে নেতানিয়াহুর সঙ্গে তাঁর মতভেদ আছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শেষ পর্যন্ত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ‘সঠিক সিদ্ধান্ত’ নেবেন। দুই নেতার আবারও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বুধবার। মূল আলোচ্য বিষয় থাকবে ইরান, যদিও গাজার পরিস্থিতিও আলোচনায় আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের আশঙ্কা, পশ্চিম তীরে উত্তেজনা বাড়লে গাজা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হতে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
সিএ/এসএ


