শীতের সকালের ঝলমলে রোদে দিনাজপুর পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের মাঠে জমে ওঠে খুদে শিক্ষার্থীদের মিলনমেলা। গণিত শেখার আনন্দ আর স্বপ্ন জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে সকাল থেকেই সেখানে জড়ো হয় শিক্ষার্থীরা। কেউ এসেছে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও থেকে, কেউবা জয়পুরহাট থেকে। অনেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে ছিলেন তাঁদের অভিভাবক ও শিক্ষকরা। আজ শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকালে সেখানে অনুষ্ঠিত হয় ডাচ্–বাংলা ব্যাংক–প্রথম আলো গণিত উৎসব–২০২৬-এর দিনাজপুর আঞ্চলিক পর্ব।
‘গণিত শেখো, স্বপ্ন দেখো’ স্লোগানে আয়োজিত এই উৎসবে রংপুর বিভাগের তিনটি জেলা এবং রাজশাহী বিভাগের জয়পুরহাট জেলা থেকে পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এটি ছিল গণিত উৎসবের ২৪তম আয়োজন, যেখানে গণিত জয়ের স্বপ্ন নিয়ে হাজির হয় খুদে গণিতপ্রেমীরা।
সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা, বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড ও আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন দিনাজপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম হাবিবুল হাসান। ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের দিনাজপুর শাখার উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা এবং পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ মন্ডল বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াডের পতাকা উত্তোলন করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলো বন্ধুসভার উপদেষ্টা ও দিনাজপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সার্জারি বিশেষজ্ঞ শিলাদিত্য শীল, দিনাজপুর জিলা স্কুলের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান সাজু, প্রথম আলোর দিনাজপুর প্রতিনিধি রাজিউল ইসলাম, আঞ্চলিক কর্মকর্তা সাব্বির হাসানসহ বন্ধুসভার বিভিন্ন শাখার সদস্যরা। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন দিনাজপুর বন্ধুসভার সভাপতি শবনম মুস্তারিন।
স্বাগত বক্তব্যে শিলাদিত্য শীল বলেন, ‘গণিত হচ্ছে একটা ভাষা। এর মাধ্যমে বিজ্ঞানের বিভিন্ন বিষয় জানা যায়। অধিকাংশই মনে করেন, গণিত একটা কঠিন বিষয়। কিন্তু একটু ভাবলেই বোঝা যায়, মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে গণিত ওতপ্রোতভাবে জড়িত।’ তিনি বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতকে বোঝা ও ভালোবাসতে সহায়তা করবে।
পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ওয়াদুদ মন্ডল বলেন, ‘আজ অনেক শিক্ষার্থী ও অভিভাবক জিপিএ–৫–এর পেছনে ছোটেন। কিন্তু আজ গণিতকে ভালোবেসে শিক্ষার্থীদের এই উচ্ছ্বাস দেখে আমি অভিভূত।’ তাঁর মতে, গণিত চিন্তাশক্তি বাড়ায় এবং লক্ষ্যে পৌঁছাতে সহায়তা করে।
ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপক মোস্তফা হেলাল বলেন, ‘শরীর সুস্থ রাখতে যেমন শরীরচর্চা দরকার, তেমনি মনকে প্রফুল্ল ও মানসিকভাবে সুস্থ রাখতে দরকার গণিতচর্চা।’ তিনি আরও বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশে গণিতচর্চা বাড়ানো জরুরি, আর প্রযুক্তির উন্নতির ফলে গণিত শেখার সুযোগও বহুগুণে বেড়েছে।
বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষণা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এস এম হাবিবুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এ রকম আয়োজনের মধ্য দিয়ে আইনস্টাইনের মতো মানুষ তৈরি হবে।’ তিনি নতুন প্রজন্মের পুনর্জাগরণে এ উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
সকাল সোয়া ১০টায় ঘণ্টাব্যাপী মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানায়, গণিতের বিভিন্ন নতুন বিষয় শেখার সুযোগ পেয়ে তারা আনন্দিত। অভিভাবকরাও বলেন, এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের গণিতভীতি দূর করে আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক।
আয়োজকেরা জানান, ডাচ্–বাংলা ব্যাংকের পৃষ্ঠপোষকতায় ও প্রথম আলোর ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটি এই উৎসবের আয়োজন করেছে। দিনাজপুর আঞ্চলিক পর্বে প্রাইমারি, জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি—এই চার ক্যাটাগরিতে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী নিবন্ধন করে। অনলাইন বাছাই শেষে ৬৫৪ জনকে আঞ্চলিক পর্বে ডাকা হয় এবং আজ পরীক্ষায় অংশ নেয় ৫১২ শিক্ষার্থী।
সিএ/এমই


