বিশ্বজুড়ে শক্তির চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবেশবান্ধব জ্বালানির গুরুত্বও বৃদ্ধি পাচ্ছে। জীবাশ্ম জ্বালানির বিকল্প হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎ বর্তমানে কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই খাতে উৎপাদন সক্ষমতা ও অবকাঠামোর দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
প্রযুক্তিবিষয়ক ওয়েবসাইট স্ল্যাশগিয়ারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শুরু পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে মোট ৫৪টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র রয়েছে। এসব কেন্দ্রে মোট ৯৪টি রিঅ্যাক্টর বা চুল্লি চালু রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৯৭ গিগাওয়াট। যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের ২৮টি অঙ্গরাজ্যে এসব বিদ্যুৎ কেন্দ্র বিস্তৃতভাবে অবস্থিত।
মার্কিন এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের তথ্যে বলা হয়েছে, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো দেশটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১৯ শতাংশ পূরণ করে থাকে। অঙ্গরাজ্যভিত্তিক উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইলিনয় শীর্ষে রয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত সেখানে ছয়টি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে থাকা ১১টি চুল্লি থেকে সাত হাজার ৬৪২ মেগাওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে, যা ওই রাজ্যের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি।
অন্যান্য উল্লেখযোগ্য রাজ্যের মধ্যে পেনসিলভানিয়া পাঁচ হাজার ৯৪৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টা এবং জর্জিয়া চার হাজার ৬০৩ মেগাওয়াট-ঘণ্টা পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন করে থাকে। জর্জিয়াতেই অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্ল্যান্ট ভোগটল। ১৯৮৭ সালে একটি চুল্লি নিয়ে যাত্রা শুরু করা এই কেন্দ্রে ২০২৪ সালের মার্চে চতুর্থ চুল্লি যুক্ত হয়। ফলে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় চার হাজার ৮০০ মেগাওয়াটে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদন সক্ষমতার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী অবস্থানে রয়েছে ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়া। যদিও শীর্ষে যুক্তরাষ্ট্র থাকলেও অন্যান্য দেশগুলোও এই খাতে বড় পরিসরে বিনিয়োগ অব্যাহত রেখেছে।
সিএ/এমআর


