ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেছেন, ‘বিভিন্ন দলের নেতারা সরকার গঠন করলে সোনার বাংলা, সবুজ বাংলা ও ডিজিটাল বাংলা গড়ার প্রতিশ্রুতি দেন। আমি এত প্রতিশ্রুতি দেব না। আল্লাহ যদি কামিয়াব করেন, আমরা ১৮ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোটাব। দুর্নীতি যখন থাকবে না, তখন সকল মানুষের মুখে হাসি ফুটবে।’
বরগুনার আমতলী পৌরসভা কার্যালয়ের সামনের মাঠে শুক্রবার দুপুরে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের উদ্দেশে তিনি নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা ও অনিয়ম থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান।
চরমোনাই পীর বলেন, ‘কেউ যেন ভোটকেন্দ্র দখলের চেষ্টা না করেন এবং সন্ত্রাসীর পথে না হাঁটেন। ইসলামী আন্দোলনের কর্মীরা সভ্য। কিন্তু আমাদের টালাবেন না। বিরক্ত করবেন না। যদি করেন, এমনভাবে গর্জন শুরু হবে, তা আর প্রতিহত করতে পারবেন না।’
সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর একশ্রেণি সারা দেশে টেন্ডারবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়ে। ওই সময় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতা-কর্মীরা সংখ্যালঘুদের জানমাল রক্ষায় ভূমিকা রাখেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড প্রতিহত করেন।
রেজাউল করীম বলেন, ‘হিন্দু ভাইদের বলব, চরমোনাইয়ের হিন্দুদের কাছে খোঁজ নিয়ে দেখেন, মায়ের কোল যেমন নিরাপদ, তাঁরাও তেমনি চরমোনাইয়ে নিরাপদ। আশা করি আপনারাও নিরাপদে থাকবেন।’
বরগুনা-১ আসনকে মডেল বরগুনায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়ে তিনি ওই আসনের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বাংলাদেশে আর কোনো আসনে জয়লাভ না করলেও বরগুনা-১ আসনের প্রার্থী জয়লাভ করবে, ইনশা আল্লাহ। ১২ ফেব্রুয়ারি বরিশাল বিভাগের মধ্যে বরগুনা-১ আসন বিজয় লাভ করবে।’
মাওলানা মাহমুদুল হোসাইন অলিউল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আসমত আলী আকন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, বরগুনা-২ আসনের প্রার্থী মুফতি মিজানুর রহমান কাসেমী, কেন্দ্রীয় সহপ্রচার সম্পাদক কে এম শরিয়ত উল্লাহ, মুফতি হাবিবুর রহমান, বরগুনা জেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা সাইদুল ইসলাম, আমতলী উপজেলা সভাপতি মাওলানা ওমর ফারুক জেহাদী এবং সাধারণ সম্পাদক গাজী মো. বায়েজিদ।
সিএ/এমই


