শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আয়তনে দেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটিতে নির্বাচনী প্রচারণা জমে উঠেছে। দুর্গম পাহাড়, নদী ও বিচ্ছিন্ন জনপদের কারণে একটি মাত্র সংসদীয় আসন থাকলেও পুরো জেলাজুড়ে চলছে ভোটের উৎসব। প্রার্থীরা দুর্গম এলাকার ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে ছুটছেন এবং উন্নয়ন ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষার নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
রাঙামাটি আসনে এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাতজন প্রার্থী। এর মধ্যে একজন স্বতন্ত্র। বিএনপি, জামায়াত–সমর্থিত ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্য, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, জাতীয় পার্টি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। অধিকাংশ প্রার্থীই যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পাহাড়ে বসবাসকারী বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার অঙ্গীকার করছেন।
এ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী দীপেন দেওয়ান। বুধবার তিনি জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা বাঘাইছড়ির বঙ্গলতলী ইউনিয়নে গণসংযোগ করেন। ওই ইউনিয়নের দুর্গম করেঙ্গাতলী বাজারে আয়োজিত এক পথসভায় তিনি সম্প্রীতি, অগ্রগতি, উন্নয়ন ও পরিবর্তনের জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
দীপেন দেওয়ান বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি না থাকলে উন্নয়ন হয় না। বিএনপি সরকার গঠন করলে, তিনি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলে যোগ্যতা ও মেধার ভিত্তিতে যেন সবাই চাকরি পান, সে নিশ্চয়তা দেবেন।
এ আসনের একমাত্র নারী প্রার্থী জুঁই চাকমা বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির মনোনীত প্রার্থী। তিনিও বাঘাইছড়ি উপজেলায় নির্বাচনী পথসভা করেছেন এবং নিজের ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। পথসভায় জুঁই চাকমা বলেন, বাঘাইছড়ি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উপজেলা। কিন্তু এর পরও জেলা সদরের সঙ্গে এ উপজেলার সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। এটা বাঘাইছড়ি উপজেলাবাসীর সঙ্গে বৈষম্য। তিনি নির্বাচিত হলে এ বৈষম্য দূর করবেন। এ ছাড়া বাঘাইছড়ি উপজেলায় পূর্ণাঙ্গ একটি হাসপাতাল করার প্রতিশ্রুতিও দেন।
অন্যদিকে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী আবু বক্কর ছিদ্দিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস থেকে নির্বাচন করছেন। তাঁর প্রতীক রিকশা। বুধবার বরকল উপজেলার এরাবুনিয়া বাজার, ভুষনছড়া বাজার ও ছোট হরিনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তাঁর পক্ষে গণসংযোগ ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়।
আবু বক্কর ছিদ্দিক বলেন, ১১–দলীয় নির্বাচনী ঐক্যে ক্ষমতায় এলে পাহাড়ি ও বাঙালি সব জনগোষ্ঠীর অধিকার নিশ্চিত করে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে। যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবার সম্প্রসারণ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানোন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাই এখন জেলার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী জসিম উদ্দিন, গণ অধিকার পরিষদের প্রার্থী আবুল বাশার, স্বতন্ত্র প্রার্থী পহেল চাকমা ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী অশোক তালুকদারও প্রচারণায় সক্রিয় রয়েছেন।
জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, রাঙামাটির ১০ উপজেলার দুটি পৌরসভা ও ৫০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এই আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৯ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৬৩ হাজার ৪১০, নারী ২ লাখ ৪৫ হাজার ৮৫৫ এবং হিজড়া ২ জন। ভোট গ্রহণের জন্য কেন্দ্র রয়েছে ২১৩টি, যার মধ্যে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত ২০টি কেন্দ্র।
সিএ/এমই


