চলতি বছরের শেষে মুক্তি পাচ্ছে শাহরুখ খানের বহুল প্রতীক্ষিত ছবি ‘কিং’। ছবিটি ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের মধ্যেই বলিউডে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা—এরপর কোন সিনেমায় দেখা যাবে বলিউড বাদশাহকে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরমহলের গুঞ্জন, প্রায় এক যুগ পর আবারও পরিচালক ফারাহ খানের সঙ্গে কাজ করতে পারেন শাহরুখ খান। এই জুটির পরবর্তী প্রকল্প হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে ব্যবসাসফল ছবি ‘ম্যায় হু না’–এর সিক্যুয়াল।
শাহরুখ খান ও ফারাহ খানের যৌথ কাজের ইতিহাস বলিউডে বেশ সফল হিসেবে পরিচিত। ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া তাঁদের সর্বশেষ ছবি ‘হ্যাপি নিউ ইয়ার’ বক্স অফিসে ভালো ব্যবসা করেছিল। এর আগে ২০০৪ সালে মুক্তি পাওয়া ‘ম্যায় হু না’ এবং ২০০৭ সালের ‘ওম শান্তি ওম’—দুটিই দর্শকপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে ‘ম্যায় হু না’ দেশাত্মবোধ, অ্যাকশন, আবেগ ও হাস্যরসের মিশেলে একটি স্টাইলিশ বিনোদনমূলক চলচ্চিত্র হিসেবে আলাদা মানদণ্ড তৈরি করেছিল।
প্রায় দুই দশক পর সেই ছবির সিক্যুয়াল ‘ম্যায় হু না ২’ নতুন আঙ্গিকে নির্মাণের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, তবে মূল ছবির আবহ বজায় রেখেই। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, ফারাহ খান শাহরুখ খানের জন্য একটি ডাবল-রোলের ধারণা তৈরি করেছেন, যা অভিনেতাকে বেশ উৎসাহিত করেছে। ছবিতে শাহরুখকে দুই বিপরীতধর্মী চরিত্রে দেখা যেতে পারে, যা আবেগ ও বিনোদনের মাত্রা আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানিয়েছে, ছবিটি দেশাত্মবোধের আবহে নির্মিত হবে এবং মূল কাস্টের কয়েকজন সদস্যকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। গল্পের কেন্দ্রে থাকবে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন এক হুমকি, যেখানে অ্যাকশন ও কমেডির ভারসাম্য বজায় রাখা হবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ছবির মূল গল্পের ধারণা এসেছে শাহরুখ খানের কাছ থেকেই, যা পূর্ণাঙ্গ চিত্রনাট্যে রূপ দিচ্ছেন আকাশ কৌশিক।
শাহরুখ খানের ব্যস্ত সময়সূচির কারণে প্রকল্পটির সময় নির্ধারণ নিয়ে আলোচনা চলছে। জানা গেছে, ২০২৬ সালের মে মাসে ‘কিং’ ছবির শুটিং শেষ করার পর তিনি ‘ম্যায় হু না ২’-এর পূর্ণাঙ্গ বর্ণনা শুনবেন এবং এরপর সিনেমাটি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। এরই মধ্যে চিত্রনাট্য লেখার কাজ জোরেশোরে এগোচ্ছে।
২০০৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘ম্যায় হু না’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন ফারাহ খান। গৌরী খান ও রতন জৈনের প্রযোজনায় নির্মিত এই ছবিতে সুশমিতা সেন, সুনীল শেঠি, অমৃতা রাও ও জায়েদ খান গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেন। গল্পে দেখা যায়, মেজর রাম প্রসাদ শর্মা এক গোপন মিশনে কলেজছাত্র সেজে এক জেনারেলের মেয়েকে রক্ষা করতে যান।
সিএ/এমই


