গণিতকে অনেকেই শুধুই সংখ্যা ও জটিল সমীকরণের সঙ্গে যুক্ত মনে করে। ক্লাসে বসে শিক্ষার্থীরা প্রায়ই ভাবেন, ‘এগুলো জীবনে কী কাজে লাগবে?’ কিন্তু বিজ্ঞান দেখিয়েছে, গণিতে দক্ষতা শুধু অঙ্কে নয়, সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান বা দৈনন্দিন জীবনের জটিল সমস্যা সমাধানেও কার্যকর। গণিত মস্তিষ্কের এমন পেশি তৈরি করতে সাহায্য করে, যা অন্যান্য বিষয়ে সুফল দেয়।
গণিত চর্চা কীভাবে মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়, তা বোঝার জন্য গবেষণায় পাঁচটি কারণ উঠে এসেছে—
১. গণিত ভালো পাঠক তৈরি করে
৩ লাখ ৫৫ হাজার শিক্ষার্থীর ওপর গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের গণিতের দক্ষতা ভালো, তারা কঠিন পাঠ্যও সহজে বোঝে। গণিত শেখায় কীভাবে তথ্য ভেঙে সহজভাবে বিশ্লেষণ করতে হয় এবং ভাষার প্যাটার্ন বোঝার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
২. চিন্তা করার শক্তি বাড়ায়
মেটাকগনিশন বা ‘চিন্তা সম্পর্কে চিন্তা করা’ দক্ষতা গণিত চর্চার মাধ্যমে বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্ক নিজে নিজে প্রশ্ন করে, কোথায় ভুল হয়েছে, কীভাবে সমাধান করা যেত—এ ধরনের অভ্যাস ইতিহাস বা বিজ্ঞানেও কাজে লাগে।
৩. কল্পনার জগতকে ত্রিমাত্রিক করে
জ্যামিতি ও স্পেশাল রিজনিং শিশুদের মধ্যেও জন্মগতভাবে থাকে। ভবিষ্যতে ইঞ্জিনিয়ার বা বিজ্ঞানী হিসেবে সফল হওয়ার জন্য এই দক্ষতা অপরিহার্য।
৪. ব্রেইনের ‘র্যাম’ বাড়ায়
গণিত চর্চা ওয়ার্কিং মেমোরি বা মস্তিষ্কের র্যাম শক্তিশালী করে। তথ্য একসাথে রাখার অভ্যাস নতুন ভাষা শেখা বা ইতিহাস মনে রাখার কাজ সহজ করে।
৫. যুক্তিবাদী হওয়ার চাবিকাঠি
গণিত শেখায় বড় সমস্যাকে ছোট করে সমাধান করার দক্ষতা। বিজ্ঞাপন বা রাজনৈতিক বক্তব্যের যুক্তি খুঁজে বের করতেও এই দক্ষতা কাজে আসে।
গণিত শুধুই ক্লাসের বিষয় নয়, এটি মস্তিষ্ককে শক্তিশালী করে, বুদ্ধিমত্তা বাড়ায় এবং অন্যান্য বিষয়ে দক্ষতা বৃদ্ধি করে।
সিএ/এমআর


