জীবনের পথ কখনোই একরেখা নয়। কখনো স্বস্তি, কখনো দুঃখ, কখনো প্রাপ্তি, আবার কখনো শূন্যতার মধ্য দিয়েই মানুষকে এগোতে হয়। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— কেন এই কষ্ট, কেন এই পরীক্ষা? ইসলামের দৃষ্টিতে একজন মুমিন তখনই আলাদা হয়ে ওঠেন, যখন তিনি বিশ্বাস করেন যে জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই আল্লাহর ক্বদরের অংশ। এই বিশ্বাসই কষ্টকে ইবাদতে এবং ধৈর্যকে সাওয়াবের পথে পরিণত করে।
ইসলামে দুনিয়াকে একটি পরীক্ষার ক্ষেত্র হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে সুখ যেমন আসে, তেমনি আসে দুঃখও। তবে একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হলো— পরিস্থিতি যাই হোক, তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রাখেন। ভয়, ক্ষুধা কিংবা জান-মালের ক্ষতির মতো কঠিন অবস্থার মধ্য দিয়েও তিনি হতাশ না হয়ে ধৈর্যের পথ বেছে নেন। কুরআনে আল্লাহ তাআলা ধৈর্যশীলদের জন্য সুসংবাদের কথা ঘোষণা করেছেন এবং বিপদের সময় ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ বলার শিক্ষা দিয়েছেন।
কুরআনের বিভিন্ন আয়াতে ধৈর্যের মর্যাদা স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ধৈর্যশীলদের প্রতিদান সীমাহীন এবং তা কোনো হিসাব ছাড়াই প্রদান করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। একইভাবে হাদিসেও ধৈর্যের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, একজন মুমিনের সব অবস্থাই কল্যাণকর। তিনি সুখে কৃতজ্ঞ হন, আর দুঃখে ধৈর্য ধরেন— উভয় অবস্থাই তার জন্য কল্যাণ বয়ে আনে।
ধৈর্যের পথে অটল থাকতে কিছু করণীয় রয়েছে। ক্বদরের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখা, কষ্টের সময় অভিযোগের বদলে দোয়ায় মনোযোগ দেওয়া, সালাত ও কুরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গভীর করা— এসবই একজন মুমিনকে শক্ত রাখে। একই সঙ্গে ধৈর্যকে ইবাদত হিসেবে মনে করা এবং সব অবস্থায় আলহামদুলিল্লাহ বলার অভ্যাস গড়ে তোলাও গুরুত্বপূর্ণ।
ইসলামের দৃষ্টিতে ধৈর্য কোনো দুর্বলতা নয়। বরং ধৈর্য হলো আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থার প্রতীক। আজকের কষ্টই ভবিষ্যতে জান্নাতের পথ সহজ করে দিতে পারে— এই বিশ্বাস নিয়েই একজন মুমিন সামনে এগিয়ে যান।
সিএ/এমআর


