রহমত, বরকত, মাগফিরাত ও নাজাতের বার্তা নিয়ে আবারও মুসলমানদের দুয়ারে আসছে পবিত্র রমজান। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হতে পারে এ বছরের প্রথম রোজা। এই মাসে সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার ও প্রবৃত্তি সংযমের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধির অনুশীলনে আত্মনিয়োগ করেন মুমিনরা।
হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রোজা এমন একটি ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজেই প্রদান করবেন। এ কারণেই রমজানকে জীবনের শ্রেষ্ঠ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করতেন সাহাবায়ে কেরাম (রা.)। তারা রমজানের আগমনের জন্য ছয় মাস আগে থেকেই দোয়া করতেন এবং রমজান শেষে ইবাদত কবুলের জন্য আরও ছয় মাস আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করতেন।
এ কারণে একজন সচেতন মুমিনের জন্য রমজানের আগেই নিজেকে প্রস্তুত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক প্রস্তুতি ছাড়া এই মহামূল্যবান সময়ের পূর্ণ সুফল পাওয়া কঠিন।
রমজানের প্রস্তুতির প্রথম ধাপ হলো অন্তরে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করা—এই মাস হবে আত্মশুদ্ধি ও গোনাহ থেকে মুক্তির নতুন অধ্যায়। একই সঙ্গে পূর্বের সব ভুলের জন্য আন্তরিক তাওবাহ ও ইসতেগফারে অভ্যস্ত হওয়া প্রয়োজন।
যাদের আগের রমজানের কাজা রোজা বাকি আছে, তাদের জন্য রমজান শুরুর আগেই তা আদায় করে নেওয়া উত্তম। বিশেষ করে শাবান মাসে এ বিষয়ে সচেতন হওয়া জরুরি।
রমজানের ফজিলত, মাসআলা-মাসায়েল ও রোজার বিধান সম্পর্কে আগেভাগেই জেনে নেওয়া উচিত, যাতে ইবাদতে ভুল না হয়। পাশাপাশি শাবান মাসে নফল রোজা, কুরআন তেলাওয়াত ও দান-সদকার মাধ্যমে রমজানের মহড়া দেওয়া যেতে পারে।
আগের রমজানে যে ঘাটতিগুলো ছিল, সেগুলো চিহ্নিত করে নতুন রমজানে তা পূরণের পরিকল্পনা নেওয়াও প্রস্তুতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। একই সঙ্গে প্রতিদিনের সময় কীভাবে ব্যয় হবে, তার একটি বাস্তবসম্মত রুটিন তৈরি করলে ইবাদতে ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
রমজানের চাঁদ দেখার সুন্নাত জীবিত রাখা এবং এ সংক্রান্ত দোয়া ও আমলের প্রতি মনোযোগী হওয়াও এই প্রস্তুতির অংশ।
সিএ/এমআর


