বিবাহের মাধ্যমে স্বামীর ওপর স্ত্রীর ভরণ-পোষণের দায়িত্ব আরোপিত হয়। পূর্ববর্তী ফুকাহায়ে কেরাম ভরণ-পোষণের মধ্যে খাদ্য, পোশাক ও বাসস্থানকে অন্তর্ভুক্ত করেছেন। তবে সময় ও সামাজিক বাস্তবতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রয়োজনীয়তার ব্যাখ্যাতেও পরিবর্তন এসেছে।
বর্তমান সময়ে রোগব্যাধির বিস্তার এবং চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির কারণে চিকিৎসাসেবা জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চিকিৎসা ছাড়া স্ত্রীর পক্ষে স্বামীর ঘরে স্বাভাবিক জীবনযাপন অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব নয়। এ কারণে সমকালীন বহু ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসাসেবাকে ‘নফকার’ বা ভরণ-পোষণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করেছেন। সামর্থ্য অনুযায়ী স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় বহন করা স্বামীর ওপর আবশ্যক বলে তারা মত দিয়েছেন।
পূর্ববর্তী যুগে চিকিৎসার খরচ স্বামীর ওপর আবশ্যক না হওয়ার পেছনে কয়েকটি বাস্তব কারণ ছিল। সে সময় চিকিৎসাবিজ্ঞান ততটা উন্নত ছিল না এবং অধিকাংশ রোগের চিকিৎসা ঘরোয়া উপায়ে সম্পন্ন হতো। চিকিৎসা ব্যয়ও ছিল তুলনামূলকভাবে কম।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের খরচ বহুগুণ বেড়েছে। ফলে স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় ভরণ-পোষণের অন্তর্ভুক্ত হিসেবে গণ্য করা ইসলামি শরিয়াহর মূলনীতির সঙ্গে অধিক সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে করেন অনেক আলেম।
শায়খ ড. ওহবাহ আজ জুহাইলি রাহি. উল্লেখ করেছেন, অতীতে চিকিৎসা মৌলিক প্রয়োজন হিসেবে গণ্য না হলেও বর্তমান সময়ে এটি খাদ্য ও পুষ্টির মতোই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অসুস্থ ব্যক্তির জন্য চিকিৎসা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পায়।
এ প্রসঙ্গে শাইখুল ইসলাম আল্লামা মুফতি তাকি উসমানিও বলেন, কুরআনে ভরণ-পোষণের ক্ষেত্রে ‘প্রচলিত রীতি’র কথা উল্লেখ রয়েছে। সামাজিক রীতির পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বিধানেও পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় চিকিৎসা ব্যয় ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবেই বিবেচিত হয়।
সিএ/এমআর


