দাম্পত্য সম্পর্ক ইসলামে কেবল সামাজিক চুক্তি নয়, বরং এটি একটি পবিত্র আমানত। ভালোবাসা, দায়িত্ব ও বিশ্বাসের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই সম্পর্কের ভিত্তি যখন সন্দেহে নড়বড়ে হয়ে যায়, তখন পারিবারিক শান্তি নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আধুনিক সময়ে এই সন্দেহের বহিঃপ্রকাশ অনেক সময় দেখা যায় স্বামী বা স্ত্রীর মোবাইল ফোন অনুমতি ছাড়া পরীক্ষা করার প্রবণতার মাধ্যমে।
ইসলামী শরিয়তের একটি মৌলিক নীতি হলো—কারো গোপনীয়তা অকারণে অনুসন্ধান করা বৈধ নয়। কোরআনে স্পষ্ট নির্দেশ এসেছে, একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান না করতে। বহু আলেম ও ফিকহবিদের মতে, এই নির্দেশনা কেবল অপরিচিত মানুষের ক্ষেত্রেই নয়, বরং নিকটতম সম্পর্ক—স্বামী ও স্ত্রীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
স্বামী-স্ত্রী হওয়ার অর্থ এই নয় যে একজন আরেকজনের সব ব্যক্তিগত পরিসরে জোরপূর্বক প্রবেশের অধিকারী হয়ে যান। দাম্পত্য জীবনের স্থিতি বজায় থাকে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সম্মানের মাধ্যমে। অহেতুক সন্দেহ থেকে জন্ম নেওয়া অনুসন্ধান সম্পর্কের ভেতরের পবিত্রতা নষ্ট করে এবং ধীরে ধীরে ভালোবাসাকে অবিশ্বাসে পরিণত করে।
অনেক আলেমের মতে, মোবাইল ফোন বর্তমান সময়ে ব্যক্তিগত ডায়েরির মতো। এতে থাকতে পারে ব্যক্তির একান্ত অনুভূতি, দোয়া, দুর্বলতা কিংবা চিন্তা—যা প্রকাশের জন্য প্রস্তুত নয়। অনুমতি ছাড়া এসব দেখা গোপনীয়তার লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে।
তবে ইসলাম বাস্তবতাকে অস্বীকার করে না। যদি প্রতারণার স্পষ্ট আলামত প্রকাশ পায় বা দাম্পত্য জীবনের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে, তাহলে গোপনে অনুসন্ধান নয়; বরং খোলামেলা আলোচনাই ইসলামের নির্দেশিত পথ। প্রয়োজন হলে পারিবারিক বা ধর্মীয় মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার কথা বলেছেন অনেক আলেম।
ইসলামী দৃষ্টিতে এমন কোনো কাজ, যা বাহ্যিকভাবে সত্য উদঘাটনের উদ্দেশ্যে করা হলেও ভেতরে ফিতনা ও অশান্তি সৃষ্টি করে—তা কল্যাণকর নয়। বাস্তবতা হলো, অনেক সময় সত্য উদঘাটিত হলেও সম্পর্ক আর আগের অবস্থায় ফিরে আসে না, কারণ একবার বিশ্বাস ভেঙে গেলে তা পুনর্গঠন করা কঠিন হয়ে পড়ে।
ইসলাম দাম্পত্য জীবনকে নজরদারির সম্পর্ক নয়, বরং প্রশান্তি ও নিরাপত্তার বন্ধন হিসেবে দেখতে চায়। যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কাছে সম্মানিত ও সন্দেহমুক্ত থাকবে। অনুমতি ছাড়া মোবাইল ফোন দেখা তাই শুধু প্রযুক্তিগত অনধিকার প্রবেশ নয়; এটি বিশ্বাসের জায়গায় নীরব আঘাতও বটে।
সিএ/এমআর


