মহাবিশ্বের রহস্যময় ডার্ক ম্যাটারের এ পর্যন্ত সবচেয়ে নিখুঁত মানচিত্র তৈরি করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই মানচিত্র থেকে বোঝা যাচ্ছে কীভাবে ডার্ক ম্যাটার আমাদের আশপাশের তারা, ছায়াপথ ও গ্রহ গঠনে কাজ করেছে।
গবেষকরা বলছেন, মহাবিশ্বকে টিকে রাখতে ডার্ক ম্যাটারের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছে।
মহাবিশ্বের সৃষ্টি শুরুতে ডার্ক ম্যাটার ও সাধারণ পদার্থ উভয়ই পাতলা স্তরে ছড়িয়ে ছিল। পরে ডার্ক ম্যাটার ধীরে ধীরে জমাট বাঁধতে শুরু করে এবং সাধারণ পদার্থকে নিজের দিকে টেনে আনে। এর ফলে তারা ও ছায়াপথ তৈরি হয়, যা আজকের মহাবিশ্বের কাঠামোতে পরিণত হয়েছে।
ডারহাম ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক গ্যাভিন লেরয় বলেন, “মানচিত্রটি দেখায় কীভাবে মহাবিশ্বের অদৃশ্য উপাদান দৃশ্যমান জগতকে কাঠামো দিয়েছে। ডার্ক ম্যাটারই মহাবিশ্বের আসল স্থপতি।”
ডার্ক ম্যাটার সম্পূর্ণ অদৃশ্য; এটি আলো শোষণ বা নিঃসরণ করে না এবং সহজেই সাধারণ পদার্থের মধ্য দিয়ে চলতে পারে। তবে এর মহাকর্ষ বল পর্যবেক্ষণ করে এর অস্তিত্ব বোঝা যায়। রিচার্ড ম্যাসি বলেন, “ডার্ক ম্যাটারের সুবিশাল মেঘ মিল্কিওয়ে ছায়াপথকে একত্রে ধরে রেখেছে। এটি না থাকলে ছায়াপথটি ছিঁড়ে ছড়িয়ে যেত।”
নতুন মানচিত্র তৈরিতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এক নির্দিষ্ট অংশের দিকে ২৫৫ ঘণ্টা নজর রাখে এবং ৮ লাখ ছায়াপথ শনাক্ত করে। এতে আকাশের সেই অংশের মানচিত্র তৈরি হয়েছে, যা পূর্ণিমার চাঁদের চেয়ে আড়াই গুণ বড়।
নাসার ডায়ানা স্কোগনামিগলিও বলেন, “ওয়েব টেলিস্কোপের উচ্চ রেজোলিউশনের কারণে আমরা ডার্ক ম্যাটারের সেই ‘অদৃশ্য কাঠামো’ অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে দেখতে পাচ্ছি।”
গবেষণা ‘অ্যান আল্ট্রা-হাই-রেজোলিউশন ম্যাপ অফ (ডার্ক) ম্যাটার’ শিরোনামে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘নেচার অ্যাস্ট্রোনমি’-তে প্রকাশিত হয়েছে।
সিএ/এমআর


