ইসলামকে বলা হয় একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। এই জীবনের পথের শেষ গন্তব্য হলো আল্লাহর সন্তুষ্টি, অন্তরের শান্তি এবং পরকালে জান্নাত লাভ। কিন্তু সেই গন্তব্যে পৌঁছাতে হলে শুধু মুসলিম পরিচয় ধারণ করাই যথেষ্ট নয়, বরং প্রয়োজন সচেতন চেষ্টা, আত্মশুদ্ধি এবং নিয়মিত আমল। আল্লাহর নৈকট্য অর্জন কোনো হঠাৎ পাওয়া অনুভূতি নয়, এটি ধাপে ধাপে গড়ে ওঠা একটি সম্পর্ক।
অনেক মানুষ মনে করেন, ইসলাম গ্রহণ করলেই জীবন আপনাআপনি সুন্দর হয়ে যাবে। বাস্তবে পরিবর্তন আসে তখনই, যখন মানুষ নিজেকে আল্লাহর নির্দেশনা অনুযায়ী গড়ে তুলতে শুরু করে। ইসলামি জীবনযাপন, হালাল-হারামের প্রতি সচেতনতা এবং চরিত্র গঠনের মাধ্যমেই আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় হয়। এই পথের শুরুটা কঠিন মনে হলেও ধীরে ধীরে তা অন্তরে প্রশান্তি এনে দেয়।
কোরআনে আল্লাহ বলেন, তিনি মানুষ ও জিন জাতিকে সৃষ্টি করেছেন শুধুমাত্র তার ইবাদতের জন্য। এই ইবাদতের মধ্যেই মানুষের প্রকৃত শান্তি নিহিত। আল্লাহর নৈকট্য লাভ মানে শুধু বেশি ইবাদত করা নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহকে গুরুত্ব দেওয়া।
আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্কের প্রথম শর্ত হলো সীমানা নির্ধারণ। ইসলাম স্পষ্টভাবে শিরক থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দিয়েছে। আল্লাহ এক ও অদ্বিতীয়, তার সঙ্গে কাউকে শরিক করা সবচেয়ে বড় সীমালঙ্ঘন। তাওহিদের ওপর অটল থাকাই আল্লাহর নৈকট্যের ভিত্তি।
আল্লাহর ওপর ভরসা বা তাওয়াক্কুলও এই সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জীবন সব সময় পরিকল্পনামাফিক চলে না, তবু আল্লাহ সম্পর্কে ভালো ধারণা রাখা ঈমানের দাবি। কোরআনে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর ভরসা করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট হয়ে যান এবং অপ্রত্যাশিত জায়গা থেকে তার রিজিকের ব্যবস্থা করেন।
নিয়মিত যোগাযোগ ছাড়া কোনো সম্পর্কই টেকে না। আল্লাহর সঙ্গে এই যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম হলো নামাজ। দিনে পাঁচবার নামাজ মানুষকে আল্লাহর সামনে দাঁড় করায়। কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর কথা শোনে, আর দোয়ার মাধ্যমে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে। এই যোগাযোগ যত দৃঢ় হয়, আল্লাহর নৈকট্য তত বাড়ে।
আল্লাহকে সব সময় স্মরণে রাখার অভ্যাসকেই বলা হয় তাকওয়া। তাকওয়ার অর্থ হলো জীবনের প্রতিটি কাজে আল্লাহকে মনে রেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া। এতে মানুষ অন্যায় ও হারাম থেকে দূরে থাকতে শেখে এবং চরিত্রে শুদ্ধতা আসে।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ বলেন, বান্দা যদি এক কদম এগিয়ে আসে, আল্লাহ তার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে যান। এই বাণী প্রমাণ করে, আল্লাহর নৈকট্য লাভের পথে আন্তরিক চেষ্টা থাকলেই আল্লাহর সাহায্য ও সান্নিধ্য লাভ করা সম্ভব।
আল্লাহর নৈকট্যের এই পথ সহজ নয়, তবে অসম্ভবও নয়। ধৈর্য, আমল ও আন্তরিকতার মাধ্যমে এই পথেই মানুষ খুঁজে পায় প্রকৃত শান্তি ও জীবনের অর্থ।
সিএ/এমআর


