ইসলামের দৃষ্টিতে শুধু নিজে গুনাহ করা নয়, অন্যকে পাপকাজে উৎসাহিত করা বা সহায়তা করাও বড় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত। ধর্মীয় বর্ণনায় বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি অপরকে পাপকাজে লিপ্ত হতে সহায়তা করে, সে নিজেও সেই গুনাহের অংশীদার হয়।
হজরত আবু হুরায়রা ও আনাস ইবনে মালিক (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যে ব্যক্তি মানুষকে নেক আমলের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানে যত মানুষ নেক কাজ করবে, তাদের সওয়াব তার আমলনামায়ও যুক্ত হবে এবং নেক আমলকারীদের সওয়াবে কোনো ঘাটতি হবে না। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি মানুষকে পাপকাজের দিকে আহ্বান করে, তার আহ্বানে যারা গুনাহ করবে, তাদের পাপের বোঝাও আহ্বানকারীর ওপর বর্তাবে এবং আসল গুনাহকারীদের পাপও কমবে না।
পবিত্র কোরআনেও এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, অবিশ্বাসীরা মুমিনদের পাপকাজে উৎসাহ দিয়ে বলত— কিয়ামতের দিন তাদের পাপভার তারা বহন করবে। কিন্তু বাস্তবে কেউ অন্যের পাপভার বহন করতে পারবে না। কিয়ামতের দিনে প্রত্যেককেই নিজের কৃতকর্মের হিসাব দিতে হবে।
কোরআনে আরও বলা হয়েছে, যারা মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তারা নিজেদের পাপভার বহনের পাশাপাশি যাদের বিভ্রান্ত করেছে, তাদের পাপভারও বহন করবে। ফলে পাপকাজে সহযোগিতা করা ব্যক্তির জন্য শাস্তির পরিমাণ আরও বেড়ে যায়।
ইসলামী ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কারও গুনাহের দায়ভার নেওয়ার প্রতিশ্রুতি বাস্তবে ভিত্তিহীন। আখিরাতে কেউ কারও বোঝা বইতে পারবে না। তাই অন্যকে পাপের পথে আহ্বান করা বা সহায়তা করা থেকে দূরে থাকা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য জরুরি।
সিএ/এমআর


