পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের তিন দিন পর মো. রাইয়ান মল্লিক (৫) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাত প্রায় ১২টার দিকে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার একটি গ্রামের প্রতিবেশী এক গৃহস্থের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৫টায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত সন্দেহে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
নিহত রাইয়ান ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মল্লিকের ছেলে। সে স্থানীয় পশারিবুনিয়া আফসারিয়া নূরানী কিন্ডারগার্টেনে শিশু শ্রেণিতে পড়াশোনা করত। পরিবারের অভিযোগ, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক শিশুটিকে হত্যা করে লাশ খড়ের গাদার ভেতরে লুকিয়ে রাখেন।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন— মো. রিয়াদ মল্লিক (১৯), মো. মিজান মল্লিক (৪২), মো. সাইদুল ইসলাম (৩৬) ও মোসা. পারভীন বেগম (৩৫)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার শিশুটি সবার অগোচরে বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। পরে তাকে না পেয়ে মা তন্নী আক্তার ভাণ্ডারিয়া থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল যৌথভাবে অনুসন্ধান শুরু করে।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর আহমেদ সিদ্দিকী বলেন, ‘আসামি রিয়াদ মল্লিককে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে রাইয়ান কোথায় আছে তা জানে বলে জানায়। পরে তাকে সঙ্গে নিয়ে ভাণ্ডারিয়ার ওই এলাকায় অভিযান চালানো হয়। রিয়াদের দেখানো মতে তাদের বসতঘরের সামনের গোয়ালঘর থেকে খড়কুটার ভেতর বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। এ বিষয়ে তদন্ত অব্যাহত আছে।’
সিএ/এসএ


