আমরা সবাই মূলত পরমাণু দিয়ে তৈরি, যা আবার ইলেকট্রন, প্রোটন ও নিউট্রন কণার সমন্বয়ে গঠিত। প্রোটন ধনাত্মক, ইলেকট্রন ঋণাত্মক এবং নিউট্রন নিরপেক্ষ চার্জধারী। তবে প্রতিকণা থাকলে, যেমন ইলেকট্রনের প্রতিকণা পজিট্রন, প্রোটনের প্রতিকণা অ্যান্টিপ্রোটন এবং নিউট্রনের প্রতিকণা অ্যান্টিনিউট্রন, এগুলো একে অপরকে ধ্বংস করার ক্ষমতা রাখে।
প্রতিপরমাণু বা অ্যান্টিঅ্যাটম তৈরি হয় এই প্রতিকণার সমন্বয়ে। এর ফলে অ্যান্টিম্যাটার বা প্রতিপদার্থ তৈরি হয়, যা দেখা হলে কণা ও প্রতিকণা উভয় ধ্বংস হয়ে শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। তবে মহাবিশ্বের কিছু কণা বেঁচে যায়, ফলে আমরা পদার্থবস্তুর উপস্থিতি দেখতে পাই।
আমাদের চারপাশের প্রতিকণার উদাহরণ রয়েছে। কলা থেকে বের হওয়া পটাশিয়াম-৪০ তেজস্ক্রিয় প্রক্রিয়ায় পজিট্রন নিঃসৃত করে। মহাজাগতিক রশ্মি ও বজ্রমেঘ থেকেও পজিট্রন আসে। বিগ ব্যাংয়ের পরপরই কণা ও প্রতিকণা তৈরি ও ধ্বংস হতে শুরু করেছিল। আজকের মহাবিশ্বে কণাগুলোর সংখ্যা প্রতিকণার চেয়ে বেশি।
লার্জ হ্যাড্রন কলাইডার (এলএইচসি) ও অন্যান্য গবেষণাগারে কণা ও প্রতিকণা তৈরি, পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োগের কাজ হচ্ছে। চিকিৎসা ও শক্তি উৎপাদনেও প্রতিপদার্থ ব্যবহার করা হয়। কণার এবং প্রতিকণার সংঘর্ষে যে শক্তি তৈরি হয়, তা গামা রশ্মি ও অন্যান্য কণায় রূপান্তরিত হয়।
কোয়ান্টাম তত্ত্বের আলোকে দেখা যায়, কণার তরঙ্গ বৈশিষ্ট্যও ধ্বংস প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিদ্যুৎ–চৌম্বকীয়, দুর্বল ও শক্তিশালী নিউক্লীয় বলের মেলবন্ধনে এ শক্তি উৎপন্ন হয়। তবে প্রতিকণার প্রকৃত হারিয়ে যাওয়া রহস্য এখনও উন্মোচিত নয়।
সিএ/এমআর


