মানুষের ইতিহাসে শক্তি ও ক্ষমতাই দীর্ঘদিন বীরত্বের মাপকাঠি হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সমাজে সাধারণত তাকেই বীর বলা হয়, যে শারীরিকভাবে শক্তিশালী অথবা প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করতে সক্ষম। কিন্তু ইসলাম এই প্রচলিত ধারণাকে পরিবর্তন করে আত্মিক শক্তিকে প্রকৃত বীরত্বের মানদণ্ড হিসেবে তুলে ধরেছে। মানুষের সবচেয়ে বড় শত্রু বাইরের কেউ নয়, বরং নিজের নফস, রাগ ও আবেগ।
রাগের মুহূর্তে মানুষ বিবেক হারিয়ে ফেলে এবং সীমালঙ্ঘনের দিকে ধাবিত হয়। তাই ইসলামে আত্মসংযমকে সর্বোচ্চ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) একটি সংক্ষিপ্ত অথচ গভীর হাদিসে বীরত্বের সংজ্ঞা নির্ধারণ করেছেন—
عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ـ رضى الله عنه ـ أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ “ لَيْسَ الشَّدِيدُ بِالصُّرَعَةِ، إِنَّمَا الشَّدِيدُ الَّذِي يَمْلِكُ نَفْسَهُ عِنْدَ الْغَضَبِ ”.
আবূ হুরাইরাহ (রা.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, প্রকৃত বীর সে নয়, যে কাউকে কুস্তিতে হারিয়ে দেয়। বরং সেই আসল বীর, যে রাগের সময় নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে। (বুখারি, হাদিস : ৬১১৪)
ইমাম নববী (রহ.) ব্যাখ্যা করেন, রাগ দমন আত্মসংযমের সর্বোচ্চ স্তর, কারণ রাগ মানুষকে অন্যায় ও সীমালঙ্ঘনের দিকে ঠেলে দেয়। ইবনে হাজর আল-আসকালানী (রহ.) বলেন, প্রতিশোধ নেওয়ার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেকে সংযত রাখা প্রকৃত বীরত্বের পরিচয়। ইমাম গাজালি (রহ.) উল্লেখ করেন, রাগ মানুষের চারিত্রিক ভারসাম্য নষ্ট করে এবং শয়তান এই অবস্থাকে কাজে লাগায়।
পবিত্র কোরআনেও বলা হয়েছে—
“আর তারা নিজেদের ক্রোধ সংবরণ করে এবং মানুষের প্রতি ক্ষমাশীল হয়।” (সুরা আলে ইমরান, আয়াত : ১৩৪)
এ থেকে বোঝা যায়, ইসলামে বীরত্ব মানে দাপট নয়, বরং আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ক্ষমাশীলতা। যে ব্যক্তি নিজের নফসকে দমন করতে পারে, সে-ই প্রকৃত অর্থে শক্তিমান।
সিএ/এমআর


