রংপুরের তাঁতিপাড়া এলাকায় বন্ধুর হাতে আমিনুল ইসলাম (৩৮) নামের এক অটোচালক নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) সকালে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর অভিযুক্ত বন্ধু বিজয় পালিয়ে যায়।
মৃত আমিনুল ইসলাম কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা। জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ধরে তিনি রংপুর নগরীতে বসবাস করে অটোচালনা করতেন। অভিযুক্ত বিজয়ও পেশায় অটোচালক এবং দুজনই তাঁতিপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় তিন দিন আগে আমিনুল ও বিজয়ের মধ্যে একটি বিষয় নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। তখন স্থানীয় কয়েকজন পরিস্থিতি শান্ত করে মীমাংসা করেন। তবে ওই ঘটনার রেশ কাটেনি। মঙ্গলবার সকালে দুজনের মধ্যে আবারও তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়, যা দ্রুত বাগবিতণ্ডায় রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিজয় তার হাতে থাকা একটি চাবি দিয়ে আমিনুল ইসলামের বুকে সজোরে আঘাত করে। আঘাতে আমিনুল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আশপাশের লোকজন ছুটে আসার আগেই বিজয় পালিয়ে যায়।
পরবর্তীতে এলাকাবাসী আমিনুলকে অচেতন অবস্থায় মাটিতে পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে উদ্ধার করেন। তবে চিকিৎসকরা নিশ্চিত করেন, ততক্ষণে তার মৃত্যু ঘটেছে।
রংপুর মেট্রোপলিটন কোতোয়ালি থানার ওসি (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এলাকাবাসীর সংবাদের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন সম্পন্ন করে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডটি কিভাবে এবং কী কারণে সংঘটিত হয়েছে তা বিস্তারিতভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। অভিযুক্ত বিজয়কে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতিও চলছে।’
এলাকাবাসীরা এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব থাকা সত্ত্বেও সামান্য বিরোধ থেকে এমন মর্মান্তিক পরিণতি অত্যন্ত দুঃখজনক। দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেছেন স্থানীয়রা। এ ঘটনায় পুরো তাঁতিপাড়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহতের সহকর্মী অটোচালকরাও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
সিএ/এএ


