আসন্ন গণভোট ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ৫৫,৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষককে অনুমোদন দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসেবে ৮১টি নিবন্ধিত সংস্থার পক্ষ থেকে দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে ৭,৯৯৭ জন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক এবং ৪৭,৪৫৭ জন স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংসদীয় আসনভিত্তিক পর্যবেক্ষণ করবেন। ইসি সচিবালয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন মল্লিক স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধি-নিষেধ রয়েছে। কেন্দ্রের ভোটার এবং নির্বাচন কমিশনের অনুমোদিত পরিচয়পত্রধারীরাই কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের জন্য ইসি অনুমোদিত ‘নির্বাচন পর্যবেক্ষণ নীতিমালা ২০২৫’ অনুসরণ বাধ্যতামূলক।
পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যুর জন্য ইসি একটি ওয়েব পোর্টাল (https://pr.ecs.gov.bd/
) তৈরি করেছে। অনুমোদিত সংস্থার সব পর্যবেক্ষককে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে অনলাইনে আবেদন করতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যবেক্ষকরা অনলাইনে তাদের কার্ড ও স্টিকার ডাউনলোড করে মুদ্রণ করতে পারবেন।
নির্দেশনা অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে, স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের কার্ড ও স্টিকার সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসার বা তার মনোনীত কর্মকর্তারা অনুমোদন করবেন। রিটার্নিং অফিসারদের ব্যবহারের জন্য পোর্টালে ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।
ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে পর্যবেক্ষকদের কয়েকটি কঠোর নিয়ম মেনে চলতে হবে। পরিচয়পত্র সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান অবস্থায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে। ভোটারদের ভোট প্রদানের অধিকারের প্রতি সচেতন থাকতে হবে এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের কাজে কোনো বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারবে না। কেন্দ্রের ভেতরে এমন জায়গায় অবস্থান করতে হবে যা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করবে না। কোনো পর্যবেক্ষক ভোট প্রদানের গোপন কক্ষে প্রবেশ করতে পারবেন না।
নীতিমালা অনুযায়ী, পর্যবেক্ষককে তার সংস্থাকে অবহিত করতে হবে যদি কোনো স্বার্থের সংঘাত দেখা দেয় বা অন্য কোনো পর্যবেক্ষকের অসঙ্গত আচরণ লক্ষ্য করেন। নির্বাচনকালীন সকল কাজ সংবিধান, নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইন ও বিধি অনুযায়ী সম্পন্ন করতে হবে।
পর্যবেক্ষক কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য বা প্রার্থীর সমর্থক হলে দায়িত্ব পালন অযোগ্য। পুরো নির্বাচনী পর্যবেক্ষণকালে পক্ষপাতহীন ও নিরপেক্ষ থাকা বাধ্যতামূলক। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষে বা বিপক্ষে চিহ্ন, প্রতীক বা পরিচয় বহনকারী পোশাক পরিধান বা প্রদর্শন করা যাবে না। নির্বাচনকালীন সময়ে কোনো উপহার গ্রহণ বা সুবিধা নেওয়া, ক্রয়চেষ্টা বা উৎসাহ গ্রহণ নিষিদ্ধ। মিডিয়ার সামনে কোনো মন্তব্য করা যাবে না যা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
সিএ/এএ


