চীনের সামরিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে যুক্তরাষ্ট্রে পারমাণবিক অস্ত্র–সংক্রান্ত গোপন তথ্য ফাঁসের অভিযোগ। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, এই অভিযোগে তদন্তের মুখে পড়েছেন চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ এক শীর্ষ জেনারেল। বিষয়টিকে সাম্প্রতিক দশকগুলোর মধ্যে চীনা সেনাবাহিনীর সবচেয়ে নাটকীয় ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত ওই সামরিক কর্মকর্তার নাম জেনারেল ঝাং ইউশিয়া। তিনি চীনের কেন্দ্রীয় সামরিক কমিশনের ভাইস চেয়ারম্যান এবং পিপলস লিবারেশন আর্মির অন্যতম সর্বোচ্চ পদস্থ কর্মকর্তা। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে শি জিনপিংয়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও প্রভাবশালী সামরিক নেতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
চীনের জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ না করে জানিয়েছে, ‘শৃঙ্খলা ও আইনের গুরুতর লঙ্ঘনের’ অভিযোগে তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে অভিযোগের ধরন বা পরিসর সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল। পত্রিকাটি জানায়, ঊর্ধ্বতন চীনা সামরিক কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত এক গোপন অভ্যন্তরীণ ব্রিফিংয়ের সূত্রে তারা বিষয়টি জানতে পেরেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জেনারেল ঝাংয়ের বিরুদ্ধে চীনের পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি–সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিগত তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে পদোন্নতির বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের ঘুষ গ্রহণের অভিযোগও আনা হয়েছে। যদিও চীনা কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত পারমাণবিক গোপন তথ্য ফাঁসের বিষয়টি প্রকাশ্যে নিশ্চিত করেনি।
ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক বিবৃতিতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র বলেন, জেনারেল ঝাংয়ের বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত কমিউনিস্ট পার্টির দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ। তিনি দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া আইনের আওতায় পরিচালিত হচ্ছে।
৭৫ বছর বয়সী ঝাং ইউশিয়া দীর্ঘদিন ধরে চীনা সামরিক বাহিনীর অন্যতম শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন। বিশ্লেষকদের মতে, তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ ও তদন্ত শি জিনপিং প্রশাসনের দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর ভেতরের ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এসএ


