চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বলেছেন, বেইজিং ও নয়াদিল্লি হচ্ছে ‘ভালো প্রতিবেশী, বন্ধু এবং অংশীদার’। ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে পাঠানো এক বার্তায় তিনি এ মন্তব্য করেন। এমন বক্তব্য এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ ভারত ও চীনের সম্পর্ক নতুন করে উষ্ণতার পথে এগোচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে দেশটির প্রেসিডেন্ট দ্রৌপদী মুর্মুকে অভিনন্দন জানান শি জিনপিং। তিনি বলেন, ‘গত এক বছরে চীন-ভারত সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে উন্নত ও বিকশিত হয়েছে, যা বিশ্ব শান্তি ও সমৃদ্ধি রক্ষায় এবং তা এগিয়ে নিতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
চীন ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয় ২০২৪ সালের অক্টোবরে। ওই সময় রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার গুরুত্বপূর্ণ মোড় হিসেবে দেখা হয়।
২০২০ সালে লাদাখ সীমান্তে সংঘর্ষে কমপক্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হওয়ার পর প্রায় চার বছর ধরে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। ওই সংঘর্ষে চারজন চীনা সেনা নিহত হওয়ার খবরও পাওয়া যায়। এরপর ভারত চীনা মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটক নিষিদ্ধ করে এবং চীনা বিনিয়োগের ওপর বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তবে এসব উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক পুরোপুরি থেমে যায়নি। বার্ষিক দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ১৩০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যায়। সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত ইস্যু পুরোপুরি সমাধান না হলেও সম্পর্ক জোরদারে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।
গত আগস্টে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি চীনের তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নেন। সে সময় তিনি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকার কথা জানান। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি বেইজিংয়ের সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতার ইঙ্গিত দেয়।
এদিকে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরে এসে নতুন করে বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করেন, যা ভারত ও চীনের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয় পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হচ্ছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ হারগুলোর একটি। অন্যদিকে চীনা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্কের হার ৩০ শতাংশের বেশি।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, জটিল সীমান্ত সমস্যাগুলো এখনও অমীমাংসিত থাকলেও দুই দেশ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে গত অক্টোবরে পাঁচ বছর পর ভারত ও চীন সরাসরি বিমান চলাচল পুনরায় চালুর ঘোষণা দেয়। রয়টার্স জানায়, ভারত চীনা বিনিয়োগের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধ শিথিল করার পরিকল্পনাও করছে।
সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স
সিএ/এসএ


