যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে শক্তিশালী শীতকালীন ঝড়ে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভারি তুষারপাত ও তীব্র শৈত্যপ্রবাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩০ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন লাখ লাখ মানুষ এবং বাতিল করা হয়েছে ১১ হাজারেরও বেশি ফ্লাইট। নিউইয়র্ক থেকে টেক্সাস পর্যন্ত ঝড়ের প্রভাব সামাল দিতে জরুরি ব্যবস্থা জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ওহাইও ভ্যালি, মিড-সাউথ ও নিউ ইংল্যান্ডজুড়ে আঘাত হানা এই ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলের বড় একটি অংশ কার্যত অচল হয়ে পড়ে। তীব্র ঠান্ডা ও বরফাচ্ছন্ন সড়কের কারণে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হয় এবং জরুরি সেবায়ও চাপ বাড়ে।
নিউইয়র্ক, টেনেসি, লুইজিয়ানা, ম্যাসাচুসেটস, কানসাস, পেনসিলভানিয়া ও টেক্সাসে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নিউইয়র্ক সিটি হল কয়েকজনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বরফ পরিষ্কারের সময় অতিরিক্ত ঠান্ডায় অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
বিদ্যুৎ সরবরাহে বড় ধাক্কা লেগেছে ঝড়ের কারণে। একযোগে সারা দেশে লাখ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে টেনেসি, মিসিসিপি ও লুইজিয়ানা। পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে জরুরি ওয়ার্মিং সেন্টার খোলা হয়েছে। বয়স্ক ও গৃহহীনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি জানান, শহরের রাস্তাঘাট পরিষ্কারে পাঁচ হাজারের বেশি স্যানিটেশন কর্মী ও আড়াই হাজার যন্ত্রপাতি মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, শহরের সব সড়ক পরিষ্কার করা হয়েছে। তবে আরও একদিন অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে একই সময়ে কানাডার বড় একটি অংশেও তীব্র তুষারঝড় ও শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং সড়ক যোগাযোগে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। বেশ কয়েকটি অঞ্চলে ‘অরেঞ্জ অ্যালার্ট’ জারি করেছে পরিবেশ দফতর।
পূর্বাঞ্চলীয় অন্টারিও প্রদেশে টানা ১০ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তুষারপাত হয়। রাজধানী অটোয়ায় স্থানীয় সময় সোমবার সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত দিনের বেলায় গাড়ি পার্কিং নিষিদ্ধ করে স্থানীয় সরকার। দেশটির সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানবন্দর টরন্টো পিয়ারসন ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টেও ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
সূত্র: রয়টার্স
সিএ/এসএ


