Tuesday, January 27, 2026
22 C
Dhaka

চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভোটের আহ্বান

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেছেন, ‘গণ-অভ্যুত্থানের আগে ১৭ বছর যেভাবে এ দেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটা ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। ১৭ বছরের অত্যাচারের নতুন রূপ হাজির হয়েছে।’ তিনি বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে এই দমন-পীড়নের ধারাবাহিকতা এখনো দৃশ্যমান।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার ফুলতল এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় এসব কথা বলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।

চট্টগ্রাম-৮ আসনে ১১ দলীয় জোটের বোয়ালখালী অংশের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফকে ভোটারদের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়ে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, ‘বাংলাদেশের মুক্তির জন্য বোয়ালখালীতে একটি মার্কায় সিল পড়বে, সেটি শাপলা-কলি মার্কা। আপনাদের একটা ভোটের মাধ্যামে এবার বাংলাদেশ দীর্ঘ কালীন মুক্তি-স্বাধীনতার দিকে এগিয়ে যাবে। বাংলাদেশ সুশাসনের দিকে এগিয়ে যাবে, সংস্কারের দিকে এগিয়ে যাবে, বাংলাদেশ সার্বভৌম রাষ্ট্রের দিকে এগিয়ে যাবে। ফ্যাসিবাদী শক্তিকে বাংলাদেশ থেকে বিতাড়িত করেছি, ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে তাদের ঐক্যকে নস্যাৎ করে দেব।’

তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট একদিনে পাঁচ শতাধিক শহীদের জীবনের বিনিময়ে আমরা ফ্যাসিবাদ তাড়াতে সফল হয়েছিলাম। ৫ আগস্ট যেমন মুক্তিকামী মানুষের ভাগ্য নির্ধারণ হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আমাদের সামনে তেমন আরেকটি দিন। এই দিনটির জন্য আমরা ১৭ বছর প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমাদের আর রক্ত দিতে হবে না, আমাদের শুধু সিল দিতে হবে এবং একটি সিলের মাধ্যমেই আমরা সহস্র শহীদের রক্তের মাধ্যমে যা অর্জন করেছিলাম তা রক্ষা করতে পারব। এই সুযোগ আমাদের কাজে লাগাতে হবে।’

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘আমরা দেখেছি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর, ঠিক ৫ আগস্টের আগে ১৭ বছর যেভাবে এদেশের মানুষকে অত্যাচার, নিপীড়ন, গুম, খুন, জেলখানায় অত্যাচার করা হয়েছে, তার একটি ডেমো আমরা গত ১৬ মাসে দেখেছি। আমরা দেখেছি কিভাবে গ্রামের অলিগলি থেকে শুরু করে শহরের অলিগলি বাজার থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছে। আমরা যদি এই চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের আর না দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে এবার রাজপথে নয়, এবার ব্যালটে বিপ্লব সাধন করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ব্যালট বিপ্লবের লক্ষ্যে বাংলাদেশের মুক্তিকামী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শরিক ১১টি রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। এখন সময় ভোটারদের একত্রিত হওয়ার এবং জোটকে সাফল্যমণ্ডিত করার। ইতোমধ্যে ৩০০ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। আপনারা তাদের এ জাতির মুক্তির প্রার্থী হিসেবে দেখবেন। কার কী মার্কা সেটা দেখার সময় নেই। আমরা শুধু দেখব কোন প্রার্থী, কোন জোট মুক্তি এনে দিতে পারবে। আমাদের ভোটের মাধ্যমে এ প্রজন্ম এবং পরবর্তী প্রজন্মের স্বাধীনতা নিহিত থাকবে।’

কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম সদস্য সচিব মনিরা শারমিনের সঞ্চালনায় পথসভায় আরও বক্তব্য দেন শাগুপ্তা বুশরা মিসমা, কেন্দ্রীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তরিকুল হক, ফরহাদ সোহেল, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জামায়াতের সেক্রেটারি অধ্যাপক বদরুল হক, চট্টগ্রাম-৮ আসনের ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মো. জোবাইরুল হাসান আরিফ এবং বান্দরবান আসনের প্রার্থী সুজাউদ্দিনসহ অন্যান্য নেতারা।

সিএ/এএ

spot_img

আরও পড়ুন

পানি ছাড়াই নিরাপত্তা নিশ্চিতের আধুনিক সমাধান

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময়...

শিশুদের ভাষা বিকাশে শ্রবণস্বাস্থ্যের ভূমিকা

মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে শ্রবণশক্তি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ভাষা...

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে কী হবে, জানাল রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালায়, তাহলে...

মৃত্যুর মুখে মুসা (আ.)-এর ঈমানি দৃঢ়তা

মৃত্যু মানবজীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য হলেও মানুষ একে প্রায়ই...

বসুন্ধরার পথে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন

বিজ্ঞানী থিবাস এখনো বিজ্ঞান সমিতির প্রেসিডেন্ট। বুকের ভেতরে জমে...

জেন আলফার কথার মর্ম বোঝার কৌশল

২০১০ সালের পর জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বলা হয় জেন...

গাজায় আর কোনো ইসরাইলি বন্দি নেই: সামরিক বাহিনী

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় আর কোনো ইসরাইলি বন্দি নেই বলে...

দুনিয়ার সম্পদ ও আখিরাতের প্রত্যাশা

কোরআনের বানি ইসরাঈল সূরার ২০ নং আয়াতে বলা হয়েছে,...

বরফ স্বচ্ছ হলেও তুষার কেন ধবধবে?

তুষারের দিকে তাকালে আমরা সাদা দেখলেও, এর কোনো নিজস্ব...

বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেটের অনিশ্চয়তা

বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার পর পাকিস্তান ক্রিকেট...

চুল নরম ও চকচকে রাখার টিপস

শীতে গরম পানি দিয়ে গোসল আরামদায়ক হলেও চুলের জন্য...

প্রার্থীর বেফাঁস মন্তব্যে ভোটারদের অসন্তোষ

ঢাকা-৬ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক...

কিয়ামতের পূর্বে সমাজের চিত্র

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে...

প্রচণ্ড শীতে গাছ কেন ফেটে যায়

যেসব দেশে প্রচণ্ড শীত পড়ে, সেখানে মানুষ শীতকে ভয়...
spot_img

আরও পড়ুন

পানি ছাড়াই নিরাপত্তা নিশ্চিতের আধুনিক সমাধান

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় এক বিস্ময়কর দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লেও একটি বাড়ি অক্ষত...

শিশুদের ভাষা বিকাশে শ্রবণস্বাস্থ্যের ভূমিকা

মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে শ্রবণশক্তি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ভাষা শেখা, পড়াশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগে শ্রবণশক্তির ভূমিকা অপরিসীম। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়টির যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে...

যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে কী হবে, জানাল রাশিয়া

যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের ওপর সরাসরি সামরিক হামলা চালায়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ভয়াবহ অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করবে এবং এর পরিণতি হবে দীর্ঘমেয়াদি ও বিপজ্জনক—এমন সতর্কবার্তা দিয়েছে...

মৃত্যুর মুখে মুসা (আ.)-এর ঈমানি দৃঢ়তা

মৃত্যু মানবজীবনের সবচেয়ে নিশ্চিত সত্য হলেও মানুষ একে প্রায়ই উপেক্ষা করে। নবী-রাসুলগণও এই বাস্তবতার বাইরে নন। তবে তাঁদের মৃত্যুর ঘটনা ঈমান, আখিরাতবোধ ও মানবিক...
spot_img