ইসলামের ইতিহাসে নবী ইবরাহিম (আ.) একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ নাম। কোরআনে তাঁকে নেতা ও পথপ্রদর্শক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁর বংশধারা থেকেই বহু নবীর আগমন ঘটেছে। ঈমান ও ইসলামের প্রকৃত অর্থ অনুধাবনে ইবরাহিম (আ.)-এর জীবন মানবজাতির জন্য অনন্য দৃষ্টান্ত।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, ঈমান কেবল বিশ্বাস নয়; এটি বুদ্ধিবৃত্তিক উপলব্ধি ও আত্মিক সচেতনতার সমন্বয়। ইসলাম হলো সেই উপলব্ধির বাস্তব প্রয়োগ। নবুয়তের ধারাবাহিকতায় এই দুই দিকের পূর্ণতা ঘটেছে মহানবী মুহাম্মদ (সা.)-এর রিসালাতে।
ইবরাহিম (আ.) মানুষকে প্রশ্ন করতে শিখিয়েছেন—কেন উপাসনা করা হচ্ছে, কোনটি স্থায়ী সত্য। তিনি নক্ষত্র, চন্দ্র ও সূর্য পর্যবেক্ষণ করে ঘোষণা করেছিলেন, ‘আমি অস্তগামীকে ভালোবাসি না।’ এই ঘোষণার মাধ্যমে তিনি তাওহিদের ভিত্তি সুদৃঢ় করেন এবং ক্ষণস্থায়ী সব কিছুর মোহ থেকে মুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
‘হানিফ’ পথের অর্থ হলো সব ভ্রান্ত আসক্তি থেকে মুখ ফিরিয়ে একমাত্র আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন। ইবরাহিম (আ.) তাঁর জীবন দিয়ে দেখিয়েছেন, সত্যের পথে চলতে প্রয়োজনে সমাজের বিরোধিতা সহ্য করতে হয়। তাঁর চিন্তা, যুক্তি ও নৈতিক দৃঢ়তা আজও মানবজাতিকে আত্মসমালোচনা ও আত্মশুদ্ধির পথে আহ্বান জানায়।
এই আদর্শ মানুষকে শেখায়—দুনিয়া উপভোগের বস্তু হতে পারে, কিন্তু ভালোবাসার কেন্দ্র হতে পারে না। প্রকৃত সুখ আসে আল্লাহভীতি, জ্ঞানচর্চা ও নৈতিক দৃঢ়তার মাধ্যমে।
সিএ/এমআর


