যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসের পাহাড়ি এলাকায় দাবানল ছড়িয়ে পড়ার সময় এক বিস্ময়কর দৃশ্যের সাক্ষী হয়েছেন স্থানীয়রা। চারদিকে আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়লেও একটি বাড়ি অক্ষত দাঁড়িয়ে থাকে। সেখানে কোনো পানি ছিটানো হয়নি, ছিল না ফায়ার সার্ভিসের উপস্থিতিও। তবুও আগুন বাড়িটির গায়ে লাগলেই নিভে যাচ্ছে। পরে জানা যায়, আগুন নেভানোর কাজে ব্যবহার করা হয়েছে অদৃশ্য শব্দতরঙ্গ।
বিজ্ঞানীরা এই প্রযুক্তির নাম দিয়েছেন ‘অ্যাকুস্টিক ফায়ার সাপ্রেশন’। আগুন জ্বলার জন্য প্রয়োজন তাপ, জ্বালানি ও অক্সিজেন—এই তিনটি উপাদান। এর যেকোনো একটি উপাদান সরিয়ে নিলেই আগুন নিভে যায়। শব্দতরঙ্গ বাতাসের অক্সিজেন অণুগুলোকে দ্রুত নড়াচড়া করিয়ে আগুনের চারপাশ থেকে অক্সিজেন সরিয়ে দেয়। ফলে আগুনের রাসায়নিক বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়।
নাসার সাবেক এরোস্পেস ইঞ্জিনিয়ার জিওফ ব্রুডার বর্তমানে ‘সনিক ফায়ার টেক’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সহ–প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর তৈরি যন্ত্রটি প্রায় ২৫ ফুট দূর থেকেই আগুন নিভাতে সক্ষম। আগে যেসব শব্দতরঙ্গ ব্যবহার করা হতো, সেগুলো মানুষের কানে বিরক্তিকর ছিল। তবে নতুন প্রযুক্তিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ইনফ্রাসাউন্ড, যার কম্পন ২০ হার্জের নিচে। এই শব্দ মানুষ শুনতে পায় না, কিন্তু আগুন দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
এই সিস্টেমে বাড়ির ছাদ ও কার্নিশে বিশেষ ধাতব পাইপ বসানো থাকে। সেন্সর আগুনের তাপ শনাক্ত করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে শব্দতরঙ্গ ছড়াতে শুরু করে, যা অদৃশ্য সুরক্ষা দেয়াল তৈরি করে আগুনের ফুলকি ঠেকিয়ে দেয়। তবে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বড় আকারের অগ্নিকাণ্ডে এই প্রযুক্তি এখনও পুরোপুরি কার্যকর নয়। ছোট আগুন বা দাবানলের ফুলকি ঠেকাতে এটি বেশি উপযোগী।
ক্যালিফোর্নিয়ায় পরীক্ষামূলকভাবে ইতিমধ্যে এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে। শিগগিরই প্রায় ৫০টি বাড়িতে সাউন্ড ফায়ার এক্সটিংগুইশার স্থাপন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এতে পানি ছাড়াই আগুন নিয়ন্ত্রণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
সিএ/এমআর


