মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকির প্রেক্ষাপটে দ্বীপটি সফর করেছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন। স্থানীয় সময় শুক্রবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে যান তিনি। সফরকালে সতর্কবার্তা দিয়ে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী বলেন, গ্রিনল্যান্ডবাসী একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতির মধ্যে আছেন।
এদিকে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ আলোচনায় শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে দুই দেশের কূটনীতিকরা ইতোমধ্যে বৈঠক করে ভবিষ্যৎ কৌশল নির্ধারণে কাজ শুরু করেছেন।
বেশ কয়েকদিন ধরেই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার হুমকি দিয়ে আসছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এই ইস্যু ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে।
ডেনমার্কের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গ্রিনল্যান্ড। ডেনিশ সরকার স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই অঞ্চলের ওপর তাদের সার্বভৌমত্ব কোনোভাবেই আলোচনার বিষয় নয়। তবে অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের সম্মেলনে ট্রাম্প আবারও গ্রিনল্যান্ড দখলের বিষয়ে তার অনড় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। এদিকে ট্রাম্পের অব্যাহত হুমকির ফলে সৃষ্ট উদ্বেগের প্রেক্ষাপটে আর্কটিক অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদারে ডেনমার্ক ও পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো একসঙ্গে কাজ করছে।
শুক্রবার ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর আর্কটিকে নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে ঐকমত্যের কথা জানান ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী। ওই দিনই ব্রাসেলস থেকে সরাসরি গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুকে পৌঁছান তিনি।
নুকে পৌঁছে মেটে ফ্রেডেরিকসেন বলেন, ‘আমরা একটি গুরুতর পরিস্থিতির মধ্যে আছি। এখন একটি কূটনৈতিক-রাজনৈতিক পথ আছে, যা ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড একসঙ্গে অনুসরণ করবে। আজ তা প্রস্তুত করতে হবে।’
গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়ে ডেনিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী লার্স লোককে রাসমুসেন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যেকোনো আলোচনা শান্তিপূর্ণভাবে এগোনো জরুরি। তিনি জানান, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ডেনিশ ও মার্কিন কূটনীতিকদের বৈঠক হয়েছে এবং সেখানে ভবিষ্যৎ কৌশলের একটি রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপের ভিন্ন ভিন্ন দেশ এ বিষয়ে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে। শুক্রবার রোমে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎসের সঙ্গে বৈঠকের পর ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে চায় ইতালি। গ্রিনল্যান্ড ও ন্যাটোর কৌশলগত বিষয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে সমন্বয়ের আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে চীনের বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী অবস্থান ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ককে ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে এবং ন্যাটোকে দুর্বল করতে পারে। তাদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপ চাইলে ন্যাটোর বাইরে নিজস্ব প্রতিরক্ষা কাঠামো গড়ে তোলার দিকেও এগোতে পারে।
সিএ/এসএ


