ফেসবুকের মূল কোম্পানি মেটা মেটাভার্সভিত্তিক কার্যক্রমে বড় ধাক্কা খেয়েছে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ও মেটাভার্স পণ্যের জন্য গঠিত রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগ থেকে এক হাজারের বেশি কর্মী ছাঁটাই শুরু করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মেটা এখন কৌশলগত মনোযোগ সরিয়ে দিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হার্ডওয়্যার ও ওয়্যারেবল ডিভাইসের দিকে। সম্প্রতি বাজারে আনা এআই-চালিত রে-ব্যান স্মার্ট গ্লাসের মতো পণ্য উন্নয়নে জোর দিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা (সিটিও) অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থ কর্মীদের উদ্দেশে পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ স্মারকে এই পরিবর্তনের কথা জানিয়েছেন।
রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগ ২০২১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৭০ বিলিয়ন ডলারের বেশি লোকসান দিয়েছে। ভোক্তা পর্যায়ে কিছু সাফল্য থাকলেও ব্যবসায়িকভাবে প্রত্যাশিত লাভ আনতে ব্যর্থ হওয়ায় বিপুল বিনিয়োগের ভার বহন করা আর সম্ভব হচ্ছে না।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২১ সালে ফেসবুক থেকে মেটা নাম পরিবর্তন করে মেটাভার্স-কেন্দ্রিক ভবিষ্যৎ কল্পনা করেছিলেন মার্ক জাকারবার্গ, যা এখনো বাস্তব রূপ পায়নি। এ বাস্তবতায় কৌশলগত পুনর্বিন্যাসে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভবিষ্যতে মেটাভার্সসংক্রান্ত উদ্যোগগুলো মূলত মোবাইল ডিভাইসভিত্তিক হবে। এতে ওয়্যারেবল ডিভাইসের পাশাপাশি মেটার বিদ্যমান মোবাইল অ্যাপগুলো যুক্ত থাকতে পারে। বসওয়ার্থ বলেন, ‘বৃহত্তর ব্যবহারকারী ভিত্তি ও দ্রুততম প্রবৃদ্ধির কারণে আমরা প্রায় পুরোপুরি মোবাইল প্ল্যাটফর্মে দল ও সম্পদ পুনর্বিন্যাস করছি।’
তবে মেটা পুরোপুরি ভিআর হেডসেট পরিকল্পনা বাতিল করছে না। ভিআর বিভাগকে আরও ‘লিন ও ফ্ল্যাট’ কাঠামোয় আনা হবে এবং সীমিত, টেকসই রোডম্যাপ অনুসরণ করা হবে। এর ফলে কোয়েস্ট সিরিজের নতুন সংস্করণ আসার সম্ভাবনা কম।
সিএ/এমআর


