পিরোজপুর-২ আসনে নির্বাচনী প্রচারণার প্রথম দিনেই বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলা শহরের কাঠপট্টি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হয়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র।
জানা গেছে, বিএনপি থেকে মনোনয়ন না পেয়ে মাহমুদ হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। দলের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে মনোনয়ন প্রত্যাহারের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি তা না করায় বুধবার (২১ জানুয়ারি) বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি তাকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রচারণার প্রথম দিন বৃহস্পতিবার মাহমুদ হোসেন নেছারাবাদের ছারছীনা দরবার শরীফের পীরের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন। এরপর দুপুর আনুমানিক একটার দিকে তিনি পৌরসভার কাঠপট্টি এলাকায় অবস্থিত সাবেক পৌর কাউন্সিলর ও পৌর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম উজ্জলের কার্যালয়ে যান।
এ সময় সেখানে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আহম্মদ সোহেল মনজুরের সমর্থকরা জড়ো হয়ে মাহমুদের কর্মী-সমর্থকদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। মাহমুদ হোসেনের দাবি, এ সময় কয়েকটি চেয়ার ভাঙচুর করা হলেও কোনো মারামারির ঘটনা ঘটেনি।
তিনি অভিযোগ করেন, বিএনপি প্রার্থীর সমর্থক নাসির উদ্দিন তালুকদার, তার ভাই সোহেল তালুকদার এবং আনিসসহ আরও কয়েকজনের নেতৃত্বে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অন্যদিকে নাসির উদ্দিন তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাদের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে। তার দাবি, মাহমুদের সমর্থক উজ্জলের কার্যালয়ে খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ছবি টাঙানো ছিল। দল থেকে মাহমুদ বহিষ্কৃত হওয়ায় তারা সেখানে গিয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের ছবি সরিয়ে নিতে চেয়েছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ ও সেনা সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। তাদের উপস্থিতির কারণে কোনো ধরনের মারামারি হয়নি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং বর্তমানে এলাকা শান্ত রয়েছে।
সিএ/এএ


