ফিলিস্তিনের গাজা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অব পিস’ বা গাজা শান্তি বোর্ডে যোগদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সৌদি আরব, পাকিস্তান, তুরস্কসহ আটটি মুসলিম দেশ। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক যৌথ ঘোষণায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
এই শান্তি বোর্ডের লক্ষ্য হলো গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকি এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান, কাতার এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত—এই আট দেশ বোর্ডে একজন করে প্রতিনিধি পাঠাবে।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, মিশর, পাকিস্তান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত এরইমধ্যে বোর্ডে যোগদানের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছিল। অন্য পাঁচটি দেশ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। বিশেষ করে সৌদি আরবকে এই শান্তি উদ্যোগে যুক্ত করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে আগ্রহ দেখিয়ে আসছিলেন এবং প্রকাশ্যেই সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানকে এতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।
একই দিনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্বীকার করেন, কিছু দেশের ক্ষেত্রে সংসদের অনুমোদন ছাড়া এই বোর্ডে যোগ দেওয়া সম্ভব নাও হতে পারে। তবে তা সত্ত্বেও আট মুসলিম দেশের এই সিদ্ধান্তকে ট্রাম্প প্রশাসনের বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গাজা শান্তি বোর্ডকে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী ব্যবস্থাপনা তদারকির জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ম্যান্ডেট দেওয়া হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ভবিষ্যতে এই বোর্ডকে বিশ্বের অন্যান্য সংঘাত সমাধানের প্ল্যাটফর্ম হিসেবেও ব্যবহার করতে চায়। প্রস্তাবিত বোর্ডের আজীবন চেয়ারম্যান হবেন ডনাল্ড ট্রাম্প এবং স্থায়ী সদস্য হতে হলে প্রতিটি দেশকে এক বিলিয়ন মার্কিন ডলার ফি দিতে হবে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরাইল
সিএ/এসএ


