রাজধানীর বেসরকারি ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক (ইউএপি) চলমান উত্তেজনার কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য সমস্ত একাডেমিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের সই করা জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রম চালানো অনুকূল নয়। পরিস্থিতি সমাধান ও স্বাভাবিক কার্যক্রম পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সকল ক্লাস বন্ধ থাকবে।
এর আগে গত রোববার (১৮ জানুয়ারি) শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড হিউম্যানিটিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক লায়েকা বশীরকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। তার বিরুদ্ধে হিজাব ও নিকাব পরা মুসলিম শিক্ষার্থীদের অবমাননা, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। একই সঙ্গে আওয়ামী রাজনৈতিক পক্ষপাতমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. এ. এস. এম. মহসিনকেও বহিষ্কার করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, হিজাব ও নিকাব পরার কারণে ক্লাস চলাকালীন প্রকাশ্যে অপমান, বৈষম্যমূলক আচরণ, ইসলামের বিধান নিয়ে কটূক্তি এবং মানসিক নির্যাতন ঘটেছে। এছাড়া ক্লাস চলাকালীন নামাজে বাধা দেওয়া, নিকাব খুলতে চাপ দেওয়া এবং পরীক্ষায় বৈষম্যমূলক গ্রেডিংয়ের ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের কাছে এসব ঘটনার ভিডিও প্রমাণ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। তাদের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র চিন্তা ও আদর্শের পার্থক্যের কারণে শিক্ষকের বিদ্যায়তনিক স্বাধীনতা পরিকল্পিতভাবে সীমিত করা হয়েছে। সংগঠনটি বলেছে, শিক্ষকের চাকরিচ্যুতির দাবি বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে এক নিন্দনীয় নজির স্থাপন করেছে।
সিএ/এসএ


