ঘুমানোর সময় মানুষ বিভিন্ন দিক মুখ করে শোয়। কেউ ডানদিকে মুখ করে, কেউ বামদিকে, আবার কেউ সোজা চিৎ হয়ে। তবে আয়ুর্বেদ এবং আধুনিক চিকিৎসাশাস্ত্র অনুযায়ী, রাতের ঘুমের জন্য বামদিকে মুখ করে শোয়া সুস্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী।
লাইফস্টাইল ডেস্ক
২ মিনিটে পড়ুন
আয়ুর্বেদ অনুসারে, শরীরের ডান এবং বাম দিকের ভিন্ন ভিন্ন কার্যকারিতা রয়েছে। বামদিকে মুখ করে ঘুমালে দারুণ কিছু স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অবস্থানে ঘুমানোর সময় শরীরের সব অঙ্গগুলো টক্সিন মুক্ত থাকে। এটি স্লিপ অ্যাপনিয়া কমাতে এবং দীর্ঘস্থায়ী পিঠের ব্যথা উপশমে সহায়তা করে। পিঠের ওপর ভর দিয়ে শোয়ালে মুখ ও জিহ্বা সম্পূর্ণ শিথিল থাকে, ফলে নাক ডাকার সমস্যা বাড়ে, তাই এ অভ্যাস থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বামদিকে ঘুমানো মেরুদণ্ডের চাপ কমাতে সাহায্য করে এবং রাতে আরামদায়ক ঘুম নিশ্চিত করে। এছাড়া, এটি অন্তঃসত্ত্বা নারীদের জন্য বিশেষ উপকারী। এই অবস্থায় প্লাসেন্টায় রক্তের সঠিক প্রবাহ বজায় থাকে, যা জরায়ু ও ভ্রূণের জন্য ভালো।
হৃৎপিণ্ড বাম পাশে অবস্থিত হওয়ায় বামদিকে মুখ করে ঘুমালে রক্ত প্রবাহ সহজ হয়। মাধ্যাকর্ষণ শক্তির প্রভাবে শরীরের ভার কমে এবং শরীর দ্রুত বিশ্রাম পায়। এছাড়া পাকস্থলী ও অগ্ন্যাশয়ও বাম পাশে থাকার কারণে এই অবস্থায় তারা কার্যকরভাবে কাজ করতে পারে। খাবারের বর্জ্যও সহজে পরিপাকতন্ত্র থেকে বের হয়।
ফলে সারারাত বামদিকে মুখ করে ঘুমালে হজম প্রক্রিয়া দ্রুত ও স্বাভাবিক হয়, শরীরের টক্সিন বের হয় এবং স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী ঘুম নিশ্চিত হয়। তাই দৈনন্দিন জীবনে সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ঘুমানোর সময় বামদিকে মুখ করে শোয়া উচিত।
সিএ/এসএ


