জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ডিজিটাল সিটিজেনশিপ ও ভুয়া তথ্য মোকাবিলায় একটি কমিউনিটি অ্যাকশন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য ছিল অংশগ্রহণমূলক শিক্ষণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ডিজিটাল সচেতনতা বৃদ্ধি এবং ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রতিরোধে সক্ষমতা গড়ে তোলা।
এই কর্মশালার আগে কমিউনিটি অ্যাকশন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবে বিভাগের ৬০ জন শিক্ষার্থী তিন দিনব্যাপী একটি সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। ব্রিটিশ কাউন্সিলের আয়োজনে এবং ইউনিভার্সিটি অব লিবারাল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব)-এর সেন্টার ফর কোয়ালিটি সাপোর্ট (সিকিউএস)-এর সহযোগিতায় এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হয়।
প্রশিক্ষণের সমাপনী শর্ত হিসেবে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা চারটি কমিউনিটি-ভিত্তিক অ্যাকশন প্রকল্প নকশা ও বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ‘ডিজিটাল হারমনি গ্রুপ’। এসব প্রকল্প জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সালমা আহ্মেদের একাডেমিক তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়।
জার্নালিজম অ্যান্ড মিডিয়া স্টাডিজ বিভাগে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা প্রহরী, আনসার সদস্য এবং শিক্ষার্থী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীরা তাদের একাডেমিক ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে পুরো কর্মশালাটি পরিচালনা করেন।
কর্মশালায় ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের পার্থক্য, প্রাথমিক ফ্যাক্ট-চেকিং কৌশল, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি কনটেন্ট শনাক্তকরণ এবং সামাজিক মাধ্যমের দায়িত্বশীল ব্যবহারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হয়। ইন্টারঅ্যাকটিভ পদ্ধতিতে পরিচালিত সেশনে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের অভিজ্ঞতা ও মতামত তুলে ধরেন, যা আলোচনাকে আরও বাস্তব ও প্রাসঙ্গিক করে তোলে।
এই উদ্যোগের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের অর্জিত জ্ঞান বাস্তব ক্ষেত্রে প্রয়োগের সুযোগ পেয়েছেন। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় সম্প্রদায়ের মধ্যে ডিজিটাল সাক্ষরতা ও সমালোচনামূলক গণমাধ্যম সচেতনতা বৃদ্ধিতে কর্মশালাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সিএ/এসএ


