একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে নিজের মাতৃভাষার পাশাপাশি অন্তত একটি আন্তর্জাতিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন এখন আর বিলাসিতা নয়, বরং সময়ের প্রয়োজন।
বৈশ্বিক যোগাযোগ, উচ্চশিক্ষা, ক্যারিয়ার উন্নয়ন কিংবা ভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সঙ্গে সংযোগ—সব ক্ষেত্রেই ইংরেজির মতো ভাষা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিন প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় যুক্ত থেকেও অনেকেই নতুন ভাষায় সাবলীল হতে পারেন না। এর বড় কারণ শেখার কৌশলগত দুর্বলতা। আধুনিক ভাষাবিজ্ঞান বলছে, ভাষা শেখা মুখস্থনির্ভর নয়; এটি একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, যেখানে সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করাই মূল চাবিকাঠি।
সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত লক্ষ্য নির্ধারণ
নতুন ভাষা শেখার শুরুতেই প্রয়োজন পরিষ্কার লক্ষ্য। শুধু ‘আমি ইংরেজি শিখব’—এ ধরনের অস্পষ্ট ইচ্ছা কার্যকর নয়। বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কী করতে পারবেন, তা স্পষ্টভাবে ঠিক করা জরুরি। যেমন, তিন মাসের মধ্যে একটি সাধারণ প্রেজেন্টেশন দেওয়া বা দৈনন্দিন কথোপকথন চালাতে পারা। ছোট, পরিমাপযোগ্য ও অর্জনযোগ্য লক্ষ্য শেখার পথে আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
ভাষার আবহে নিজেকে ডুবিয়ে রাখা
শিশুরা যেমন পরিবেশ থেকেই ভাষা শেখে, তেমনি নতুন ভাষা আয়ত্ত করতেও প্রয়োজন ইমার্শন। দৈনন্দিন জীবনে যতটা সম্ভব সেই ভাষার উপস্থিতি বাড়াতে হবে। ফোন বা কম্পিউটারের ভাষা পরিবর্তন, পডকাস্ট শোনা, সাবটাইটেলসহ সিনেমা দেখা—এসবের মাধ্যমে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে নতুন ভাষার শব্দ ও বাক্য কাঠামোর সঙ্গে পরিচিত হয়।
প্রসঙ্গের ভেতরে শব্দ শেখা
শুধু শব্দের তালিকা মুখস্থ করলে তা দীর্ঘদিন মনে থাকে না। বরং একটি শব্দকে বাক্য ও পরিস্থিতির সঙ্গে যুক্ত করে শেখা বেশি কার্যকর। এতে শব্দটির ব্যবহারিক অর্থ ও প্রয়োগ স্পষ্ট হয় এবং বাস্তব কথোপকথনে তা সহজে ব্যবহার করা যায়।
ভুলের ভয় ছাড়াই কথা বলা শুরু
নতুন ভাষা শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা হলো ভুল করার ভয়। অথচ ভাষার মূল উদ্দেশ্য যোগাযোগ। শুরু থেকেই ভাঙা ভাষায় হলেও কথা বলার অভ্যাস করতে হবে। আয়নার সামনে অনুশীলন বা বন্ধুর সঙ্গে আলাপ—সবই শেখার অংশ। ভুল থেকেই শেখার সুযোগ তৈরি হয়।
ব্যাকরণকে অতিরিক্ত চাপ না দেওয়া
ব্যাকরণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও শুরুতেই জটিল নিয়মে আটকে গেলে ভাষা শেখার গতি কমে যায়। আগে ভাব প্রকাশ ও বাক্য গঠনে মনোযোগ দেওয়া জরুরি। নিয়মিত ব্যবহারের মধ্য দিয়েই ব্যাকরণ ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে ওঠে।
প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার
বর্তমান সময়ে ভাষা শেখার জন্য নানা অ্যাপ ও এআইভিত্তিক টুল রয়েছে। এসব প্ল্যাটফর্ম গেম ও অনুশীলনের মাধ্যমে শেখাকে সহজ করে তোলে। অনলাইন ভিডিও, এআই চ্যাট কিংবা ডিজিটাল রিসোর্স ব্যবহার করে উচ্চারণ, লেখা ও কথাবার্তার দক্ষতা বাড়ানো সম্ভব।
নিয়মিত চর্চার অভ্যাস গড়া
ভাষা শেখা কোনো হঠাৎ অর্জন নয়। প্রতিদিন অল্প সময় হলেও নিয়মিত চর্চা সবচেয়ে কার্যকর। দৈনিক পড়া, লেখা বা শোনার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বড় পরিবর্তন এনে দেয়।
নতুন ভাষায় চিন্তা করার চেষ্টা
অনেকেই আগে নিজের ভাষায় চিন্তা করে পরে অনুবাদ করেন, যা সাবলীলতায় বাধা সৃষ্টি করে। সরাসরি নতুন ভাষায় চিন্তা করার অভ্যাস গড়ে তুললে কথা বলা ও বোঝা দুটোই সহজ হয়। ছোট ছোট কাজ, পরিকল্পনা বা দৈনন্দিন ভাবনা সেই ভাষায় সাজানোর চেষ্টা এতে সহায়ক।
সিএ/এসএ


