চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার চরভৈরবী ইউনিয়নে নদী ভাঙনের নীল বেদনা কাটিয়ে দীর্ঘ কয়েক বছর পর আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় উৎসব। চরভৈরবী সাবেক বাজারে অবস্থিত মন্দিরটি মেঘনার গর্ভে বিলুপ্ত হওয়ার পর দীর্ঘ সময় কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও, গত ৫ বছর ধরে নতুন উদ্যমে শুরু হয়েছে পূজা-অর্চনা। যা বর্তমানে পুরো এলাকায় হাজারো ভক্তের এক মহা-মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।
জানা যায়, চরভৈরবী ইউনিয়নের পুরাতন বাজার এলাকাটি নদী ভাঙনকবলিত হওয়ায় একসময় মন্দিরসহ জনপদটি নদীগর্ভে বিলুপ্ত হয়ে যায়। এতে সাময়িকভাবে ধর্মীয় কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়লেও সনাতন ধর্মাবলম্বী পরিবারগুলো দমে যায়নি। বর্তমানে চরভৈরবী নতুন বাজার হরি ও রক্ষা কালীমন্দিরকে কেন্দ্র করে আবারও জমজমাট হয়ে উঠেছে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান।

সরেজমিনে দেখা যায়, ১৮ জানুয়ারি রবিবার থেকে শুরু হওয়া ২ দিনব্যাপী এই আয়োজনে রয়েছে পূজা-অর্চনা, পদাবলী কীর্তন ও প্রসাদ বিতরণ। উৎসবে আসা ভক্ত বাপন, গৌতম ও আনন্দ জানান, “একসময় নদী ভাঙনে আমাদের সব হারিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু এখন নতুন করে এই আয়োজন শুরু হওয়ায় আমাদের হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য ও ধর্মীয় সংস্কৃতি আবারও প্রাণ ফিরে পেয়েছে।”
পূজা আয়োজক কমিটির সভাপতি নিধু বনিক ও সাধারণ সম্পাদক অপু পোদ্দার বলেন:”নদী ভাঙনের পর এই অনুষ্ঠানটি পুনরায় শুরু করা আমাদের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা ছিল। আজ হাজার হাজার ভক্তের সমাগম দেখে আমরা আনন্দিত। এই উপস্থিতি আমাদের প্রতি বছর অনুষ্ঠানটি আরও বড় পরিসরে আয়োজন করতে উৎসাহ জোগাবে।”

মন্দির কমিটির সভাপতি লক্ষ্মণ পোদ্দার ও সাধারণ সম্পাদক সংকর বনিক জানান, স্থানীয় সকল ভক্তের সহযোগিতায় গত ৫ বছর ধরে এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। এই আয়োজন মূলত সকল ধর্মের মানুষের মাঝে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বহিঃপ্রকাশ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক বিষয়ে হাইমচর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমিত রায় জানান, “এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান আমাদের সামাজিক বন্ধনের একটি বড় নিদর্শন। অনুষ্ঠানটি শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।
শিমুল অধিকারী সুমন, চাঁদপুর
সিএ/জেএইচ


