বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আড্ডা একটি স্বাভাবিক ও গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ। ছোটবেলা থেকে অনেককেই শেখানো হয়, আড্ডা দিলে মানুষ নষ্ট হয়ে যায় কিংবা আড্ডাবাজদের এড়িয়ে চলা উচিত। তবে বাস্তবতায় আড্ডা মানুষের চরিত্র নির্ধারণ করে না, বরং আড্ডার সঙ্গী ও আলোচনার বিষয়ই এর প্রকৃত মূল্য নির্ধারণ করে। সৎ সঙ্গ যেমন মানুষকে ইতিবাচক পথে এগিয়ে নেয়, তেমনি অসৎ সঙ্গ ক্ষতির কারণ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি ক্ষেত্র, যেখানে জ্ঞানচর্চা শুধু ক্লাসরুমে সীমাবদ্ধ থাকে না। ক্যাম্পাসের হাঁটাচলা, চায়ের দোকান কিংবা অবসর সময়ের আড্ডায়ও নানা বিষয়ে আলোচনা হয়, যা চিন্তাকে প্রসারিত করে। স্কুলজীবনে যেখানে আড্ডা নিরুৎসাহিত করা হতো, সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অনেক শিক্ষকই আড্ডাকে ইতিবাচকভাবে দেখেন। কারণ, অনানুষ্ঠানিক পরিবেশে মতবিনিময় সহজ হয় এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তাশক্তি বিকশিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ে দেশের বিভিন্ন জেলা, সংস্কৃতি ও সামাজিক পটভূমির মানুষের সঙ্গে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি হয়। উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ কিংবা ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা ও সংস্কৃতি আড্ডার মধ্য দিয়ে একে অপরের কাছে উন্মোচিত হয়। এই অভিজ্ঞতা শুধু পাঠ্যবই থেকে অর্জন করা সম্ভব নয়।
সাহিত্য ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও আড্ডার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। লেখক ও চিন্তাবিদরা তাঁদের লেখায় আড্ডার মাধ্যমে জ্ঞান ও সংস্কৃতি বিনিময়ের চিত্র তুলে ধরেছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক যখন পারস্পরিক সম্মান বজায় রেখে বন্ধুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, তখন আড্ডার মধ্য দিয়েই জ্ঞানচর্চা আরও গভীর ও কার্যকর হয়।
সিএ/এসএ


