প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। ইসলাম মানুষের জীবন থেকে মৃত্যু—উভয় ক্ষেত্রেই শৃঙ্খলা, মর্যাদা ও পবিত্রতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে। একজন মুসলিমের ইন্তেকালের পর জানাজা ও দাফনের আগ পর্যন্ত যেসব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়, তার মধ্যে মৃতদেহকে গোসল করানো একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাহ আমল।
হাদিসের আলোকে জানা যায়, মৃতকে গোসল দেওয়ার ক্ষেত্রে বরই পাতা ও কর্পূর ব্যবহার করা সুন্নাহসম্মত। নবী করিম সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কন্যা হজরত যায়নাব (রা.)-এর ইন্তেকালের সময় দাফনসংক্রান্ত বিষয়ে স্পষ্ট দিকনির্দেশনা প্রদান করেছিলেন, যা থেকে এই বিধান সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়।
উম্মে আতিয়্যা আনসারী (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, রসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—তোমরা তাকে তিনবার, পাঁচবার অথবা প্রয়োজন মনে করলে তার চেয়েও বেশি বার বরই পাতা মিশ্রিত পানি দিয়ে গোসল দাও। আর শেষবারে কর্পূর অথবা কিছু কর্পূর ব্যবহার করবে। এই নির্দেশনা থেকেই বরই পাতা ব্যবহারের সুন্নাহ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
ইসলামি বিশ্লেষকদের মতে, বরই পাতা প্রাকৃতিকভাবে পরিষ্কারক ও জীবাণুনাশক গুণাবলীসম্পন্ন। এটি মৃতদেহকে ভালোভাবে পরিষ্কার করতে সহায়তা করে এবং পবিত্রতা নিশ্চিত করে। অন্যদিকে, কর্পূরের সুগন্ধ মৃতদেহে শীতলতা ও প্রশান্তি এনে দেয় এবং দাফনের পূর্ব মুহূর্তে উপস্থিত ব্যক্তিদের জন্যও আরামদায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করে।
ইসলাম মৃতদেহকে কখনোই অপবিত্র হিসেবে গণ্য করে না। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন—জীবিত কিংবা মৃত, কোনো অবস্থাতেই একজন মুসলিম অপবিত্র নয়। নবীজি সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামও বলেছেন, মুমিন অপবিত্র হয় না। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়, মৃতদেহকে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে দাফনের প্রস্তুতি নেওয়াই ইসলামের নির্দেশ।
মুসলিম জীবনের শেষ অধ্যায়েও ইসলামের সৌন্দর্য ও শালীনতা ফুটে ওঠে। মৃতের গোসল, কাফন ও দাফন কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং এটি মৃত ব্যক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা এবং ইসলামের পবিত্রতা রক্ষার একটি বাস্তব অনুশীলন।
বরই পাতা ও কর্পূরের ব্যবহার মৃতের দেহকে পরিচ্ছন্ন ও পবিত্র রাখার ক্ষেত্রে সুন্নাহভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। এর মাধ্যমে ইসলামের প্রতিটি বিধানের অন্তর্নিহিত তাৎপর্য ও মানবিক সৌন্দর্য আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
সিএ/এসএ


