নানা নাটকীয়তার পর জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন জোটে না থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন দলটি জানিয়েছে, তারা এককভাবেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং হাতপাখা প্রতীকে ২৬৮টি আসনে প্রার্থী থাকবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের এই অবস্থান তুলে ধরেন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র গাজী আতাউর রহমান। আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলের সঙ্গে কয়েক দিন ধরে চলা টানাপোড়েনের পর দলটি একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয়।
এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটের দিন রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জামায়াতসহ সমমনা ইসলামপন্থী দলগুলো সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে নির্বাচন ও গণভোট আলাদা দিনে আয়োজনের দাবিতে যুগপৎ আন্দোলনে নামে। পরে তারা একসঙ্গে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জামায়াতের মতবিরোধ তৈরি হয়।
জামায়াতের পক্ষ থেকে ৪০টি আসন ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও ইসলামী আন্দোলন ৫০টি আসন দাবি করে। কয়েক দিন ধরে দর–কষাকষির পর বৃহস্পতিবার জামায়াতসহ ১০টি দল সংবাদ সম্মেলন করে জোটের প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করে। সেখানে ৪৭টি আসন ফাঁকা রেখে ইসলামী আন্দোলনকে জোটে রাখার আশার কথা জানান জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। এর পরদিনই আলাদা সংবাদ সম্মেলনে একক নির্বাচনের ঘোষণা দেয় ইসলামী আন্দোলন।
সংবাদ সম্মেলনে গাজী আতাউর রহমান বলেন, ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থীরা শুরুতে ২৭০টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি আসনে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। বাকি ২৬৮টি আসনে দলের প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন এবং একজনও মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন না।
৩০০ আসনের বাকি ৩২টি আসনে কাকে সমর্থন দেওয়া হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ইসলামী আন্দোলনের নীতি ও আদর্শের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রার্থীদের সমর্থন দেওয়া হবে।
গাজী আতাউর রহমান বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্যে ইসলামপন্থী শক্তির সামনে বড় একটি সুযোগ তৈরি হয়েছিল। এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইনসাফ কায়েম ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই দলের আমির ‘ওয়ান বক্স পলিসি’ ঘোষণা করেছিলেন। এতে মানুষের মধ্যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
তিনি বলেন, অনেকে ইসলামী আন্দোলনের আমিরের ‘ওয়ান বক্স পলিসি’র ডাকে সাড়া দিয়েছিলেন। কিন্তু এক পর্যায়ে এসে কেউ কেউ রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল ও ক্ষমতায় যাওয়ার একমাত্র লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্য এই নীতিকে ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে ইসলামী আন্দোলন ব্যথিত ও মর্মাহত।
আসন সমঝোতা থেকে সরে আসার ব্যাখ্যায় গাজী আতাউর রহমান বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর শক্তি–সামর্থ্য বেশি থাকলেও নৈতিক ও আদর্শিকভাবে ইসলামী আন্দোলন কারও চেয়ে দুর্বল নয়। জামায়াতের আমির ক্ষমতায় গেলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার কথা বলেছেন। জামায়াতের সঙ্গে বৈঠকের পর একজন খ্রিষ্টান নারী স্পষ্ট করে বলেছেন, তাঁরা আশ্বস্ত হয়েছেন, জামায়াত রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে শরিয়াহ আইন প্রতিষ্ঠা করবে না। বিষয়টি জানার পর ইসলামী আন্দোলন বুঝতে পেরেছে, যে লক্ষ্য নিয়ে তাদের দল এগিয়ে যাচ্ছে, সে লক্ষ্য অর্জিত হবে না।’
সংবাদ সম্মেলনে ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসউদ, আশরাফুল আলম, সহকারী মহাসচিব কে এম আতিকুর রহমান, আহমদ আবদুল কাইয়ুম, সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক, প্রচার ও দাওয়া সম্পাদক শেখ ফজলুল করীম (মারুফ), সহপ্রচার সম্পাদক কে এম শরীয়াতুল্লাহসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/জেএইচ


