শীতের আমেজ শুরু হতেই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় ইটভাটাগুলোতে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। বর্ষার বিদায় আর শুষ্ক মৌসুমের আগমনে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ইটভাটাগুলোতে এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন কারিগর ও শ্রমিকরা। কাদা দিয়ে কাঁচা ইট তৈরি, রোদে শুকানো এবং পরে তা আগুনে পুড়িয়ে লাল ইটে রূপান্তরের মহোৎসবে মেতেছে শত শত শ্রমজীবী মানুষ।
বিস্তারিত সংবাদ: সরেজমিনে বাউফলের বিভিন্ন ইটভাটা ঘুরে দেখা যায়, ভোর থেকে সন্ধ্যা অবধি চলছে কর্মযজ্ঞ। বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির কারণে ইট তৈরির কাজ বন্ধ থাকে বলে এ সময়ে শ্রমিকদের হাতে কাজ থাকে না। তাই শুষ্ক মৌসুম বা শীতের এই কয়েক মাসই তাদের উপার্জনের প্রধান সময়। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবং বৃষ্টি না হওয়ায় পুরোদমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন তারা।
শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, কেউ মাটি কাটছেন, কেউ ট্রলিতে করে মাটি টানছেন, আবার কেউ ব্যস্ত ছাঁচে ফেলে কাঁচা ইট তৈরিতে। পুরুষ শ্রমিকদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকদেরও সমানতালে কাজ করতে দেখা গেছে। মাঠের পর মাঠ সাজিয়ে রাখা হয়েছে কাঁচা ইট। যা রোদে শুকানোর পর তোলা হচ্ছে ভাটায়।
ভাটা মালিকরা জানান, শীত মৌসুমে মাটির কাজ করা সহজ এবং আবহাওয়া শুকনো থাকায় ইটের মানও ভালো হয়। তবে জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম বৃদ্ধির ভিড়ে শ্রমিকদের শ্রম নিশ্চিত করতে তারা নিরলস চেষ্টা করে যাচ্ছেন।
বাউফলের এই ইটভাটাগুলো শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের অংশ নয়, বরং হাজারো মানুষের কর্মসংস্থানের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। শীতের হিমেল হাওয়ার মধ্যেও শ্রমিকদের ঘামঝরানো এই পরিশ্রম যেন উন্নয়নের চাকা সচল রাখার এক নিরন্তর গল্প।
আবদুর রহমান সৈকত, পটুয়াখালী
সিএ/জেএইচ


