দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বুড়িমারী স্থলবন্দরে যথাযথ তল্লাশি ও শুল্কায়ন প্রক্রিয়া ছাড়াই কাস্টমস সীমানার বাইরে অবস্থান করছে শত শত ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক। সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়া সত্ত্বেও বন্দরের বন্ডেড এরিয়ার বাইরে এসব ট্রাকের অবস্থান বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই অব্যবস্থাপনা স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও শঙ্কার সৃষ্টি করেছে।
অরক্ষিত বন্দর ও নজরদারির অভাব
সরেজমিনে দেখা গেছে, কাস্টমসের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে বুড়িমারী ঘুন্টি এলাকা, মেডিকেল এলাকা এবং শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ইসলামপুর পর্যন্ত বিস্তৃত পাথর ক্রাশিং সাইটগুলোতে ২০ থেকে ২৪ চাকার অন্তত ৩০-৪০টি ভারতীয় ট্রাক আনলোডের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে। নিয়ম অনুযায়ী সব ট্রাক বন্ডেড এরিয়ার ভেতরে থাকার কথা থাকলেও, এখানে নজরদারি ছাড়াই যত্রতত্র ট্রাক অবস্থান করছে। অনেক ক্ষেত্রে গভীর রাত পর্যন্ত চলে এসব ট্রাক আনলোডের কাজ।
বন্দরে বর্তমানে কোনো কার্গো স্ক্যানার না থাকা এবং প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট এই ঝুঁকিকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জনমনে শঙ্কা ও অতীতের অভিজ্ঞতা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “পাথরের ট্রাকের আড়ালে আসলে কী আসছে, তা সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা অসম্ভব। নির্বাচন সামনে রেখে আমরা শঙ্কার মধ্যে আছি।” যদিও এখন পর্যন্ত কোনো অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়নি, তবে এর আগে ভারতীয় ও ভুটানি ট্রাক থেকে কোটি টাকা মূল্যের সিসা, মাদক, কসমেটিকস, ওষুধ ও কাপড়সহ বিপুল পরিমাণ অবৈধ পণ্য একাধিকবার উদ্ধার হয়েছে।
বুড়িমারী কাস্টমসের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন জানান, নিয়মিত নজরদারি ও তল্লাশি কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে ব্যবসায়ীরা নিয়ম মানছেন না উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা কাস্টমস এলাকার বাইরে ট্রাক না নিতে বললেও ব্যবসায়ীরা লেবার সংকটসহ নানা অজুহাতে বাইরে ট্রাক নিয়ে যাচ্ছেন এবং আনলোড করতে রাত করে ফেলছেন।”
অন্যদিকে, পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বলেন, “আমি নতুন যোগদান করেছি, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের শৈথিল্য বরদাস্ত করা হবে না।”
নিরাপত্তা ঝুঁকির পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে তীব্র পরিবেশগত ঝুঁকি। পাথর ক্রাশিং জোনগুলোতে যত্রতত্র ট্রাক অবস্থান এবং ধুলোবালির কারণে স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়েছে। কৃষি জমি ও বসতবাড়ির সন্নিকটে এই বিশৃঙ্খল কার্যক্রম জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলেছে।
স্থানীয়দের দাবি উদ্ভূত পরিস্থিতিতে স্থানীয় সচেতন মহল দাবি তুলেছেন অবিলম্বে বন্দরে অত্যাধুনিক স্ক্যানার মেশিন স্থাপন করতে হবে। নির্বাচন সামনে রেখে বিজিবি ও পুলিশের যৌথ নজরদারি জোরদার করতে হবে। কাস্টমস এরিয়ার বাইরে ট্রাক অবস্থান ও আনলোড সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে।
প্রশাসনের দ্রুত ও স্বচ্ছ পদক্ষেপই কেবল এই সীমান্তে জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট প্রতিনিধি
সিএ/জেএইচ


