বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ব্রেন্ট ফিউচারের দাম প্রতি ব্যারেল ২২ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৬৪.০৯ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ২৩ সেন্ট বা ০.৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৯.৭৩ ডলারে।
আইএনজি পণ্যের কৌশলবিদরা উল্লেখ করেছেন, ইরানে তীব্র বিক্ষোভের কারণে তেলের দামে ঊর্ধ্বগতি হয়েছে। ইরান দীর্ঘদিন ধরেই সরকারবিরোধী বিক্ষোভের মুখোমুখি। এই অস্থিরতার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোনও সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কা বেড়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিমধ্যেই ইরানের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
ট্রাম্প আরও জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যে কোনো ব্যবসা করলে সংশ্লিষ্ট দেশকে যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করতে পারে। উল্লেখ্য, ইরানের তেলের বড় অংশ চীনে রফতানি হয়। আইএনজি কৌশলবিদরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে ইরানের তেলের ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের প্রশ্ন তেলের বাজারে প্রভাব ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের অস্থিরতা তেলের দামে ভূ-রাজনৈতিক ঝুঁকির প্রিমিয়াম হিসেবে প্রতি ব্যারেল প্রায় ৩-৪ ডলার যোগ করেছে। অন্যদিকে, ভেনেজুয়েলা থেকে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাজারকে কিছুটা চাপের মধ্যে রেখেও দাম কমানোর জন্য পর্যাপ্ত প্রভাব ফেলছে না।
এছাড়া, রাশিয়ার ইউক্রেনে সামরিক অভিযান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল রিজার্ভের ওপর সরকারের নতুন চাপও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বৃদ্ধি করেছে। এসব কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
সূত্র
রয়টার্স, আইএনজি
সিএ/এসএ


