বর্তমানে ঘরের ভেতর থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিভিশনের পর্দা পর্যন্ত বিড়ালের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো। অনেকের কাছে বিড়াল আদুরে ও প্রিয় পোষা প্রাণী হলেও ইতিহাস বলছে, এই প্রাণী একসময় ছিল দক্ষ বন্য শিকারি। মানুষের সঙ্গে দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আজকের এই গৃহপালিত অবস্থায় পৌঁছেছে বিড়াল।
বিড়ালের পোষ মানার ইতিহাস নিয়ে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় জানা গেছে, মানুষের সঙ্গে বিড়ালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে প্রায় তিন থেকে চার হাজার বছর আগে। এত দিন ধারণা করা হতো, প্রায় ১০ হাজার বছর আগে কৃষিকাজ শুরু হওয়ার সময় থেকেই মানুষের আশপাশে ঘোরাফেরা করতে শুরু করে বিড়াল। নতুন গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং দেখিয়েছে, মানুষের সঙ্গে বিড়ালের ঘনিষ্ঠতা তুলনামূলকভাবে অনেক পরে তৈরি হয়।
গবেষকরা ইউরোপ, উত্তর আফ্রিকা ও আনাতোলিয়ার বিভিন্ন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানে পাওয়া বিড়ালের হাড় থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করেছেন। সেই ডিএনএ আধুনিক বিড়ালের জিনগত তথ্যের সঙ্গে তুলনা করে তারা দেখতে পান, বিড়াল পোষ মানার প্রক্রিয়া প্রথম শুরু হয়েছিল উত্তর আফ্রিকায়, বিশেষ করে প্রাচীন মিসরে। আগে ধারণা ছিল, মধ্যপ্রাচ্যের লেভান্ত অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক বসতি গড়ে ওঠার সময়ই বিড়াল মানুষের সান্নিধ্যে আসে। তবে নতুন তথ্য অনুযায়ী, মিসরেই বিড়ালের পোষ মানার প্রক্রিয়া দ্রুত ও বিস্তৃতভাবে ঘটে।
প্রাচীন মিসরে বিড়াল ছিল অত্যন্ত সম্মানিত প্রাণী। শিল্পকর্মে তাদের উপস্থিতি দেখা যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে মৃত্যুর পর বিড়ালের মমিও করা হতো। ফারাওদের আমলে বিড়ালকে সুরক্ষা ও সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হতো, যা মানুষের সঙ্গে তাদের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলে।
মানুষের সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠার পর বিড়াল ধীরে ধীরে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে। গবেষণায় বলা হয়েছে, ইউরোপে বিড়ালের আগমন ঘটে প্রায় দুই হাজার বছর আগে, যা আগের ধারণার চেয়ে অনেক দেরিতে। রোমানদের মাধ্যমে বিড়াল ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যে পৌঁছায় এবং পরে বাণিজ্যপথ ও সিল্ক রোড ধরে পূর্ব দিকে চীনের দিকে বিস্তার লাভ করে। বর্তমানে অ্যান্টার্কটিকা ছাড়া বিশ্বের প্রায় সব অঞ্চলে গৃহপালিত বিড়ালের উপস্থিতি রয়েছে।
বিজ্ঞানীরা আরও জানিয়েছেন, আজকের গৃহপালিত বিড়াল মূলত আফ্রিকান বন্য বিড়াল প্রজাতির বংশধর। দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের কাছাকাছি থাকার ফলে তাদের আচরণ, খাদ্যাভ্যাস ও স্বভাবের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে, তবে শিকারি প্রবৃত্তির অনেক বৈশিষ্ট্য এখনও তাদের মধ্যে রয়ে গেছে।
সিএ/এমআর


