শিরক ইসলামে সবচেয়ে গুরুতর পাপের মধ্যে একটি। কোরআনে আল্লাহ তা’আলা শিরককে সবচেয়ে নিকৃষ্ট জুলুম হিসেবে বর্ণনা করেছেন এবং বারবার থেকে বাঁচার নির্দেশ দিয়েছেন। শিরক আল্লাহর সঙ্গে অন্যকে সমান বা অংশীদার করা; এটি সচেতনভাবে বা অজান্তে ঘটতে পারে। নবীজির (সা.) নির্দেশ অনুযায়ী, এটি পিঁপড়ার পদচারণার চেয়েও সূক্ষ্মভাবে মানুষের মধ্যে লুকিয়ে থাকতে পারে।
মা’কিল ইবনে ইয়াসার (রা.) বর্ণনা করেন, একদিন তিনি আবু বকর সিদ্দিক (রা.)-এর সঙ্গে নবীজির কাছে যান। নবীজি (সা.) বললেন, আবু বকর! শিরক পিঁপড়ার পদচারণার চেয়েও সন্তর্পণে তোমাদের মধ্যে লুকিয়ে থাকে। আবু বকর (রা.) প্রশ্ন করেন, আল্লাহর সঙ্গে অন্য কোনো কিছুকে ইলাহ গণ্য করা ছাড়া কি আরও শিরক আছে? নবীজির (সা.) উত্তর, হ্যাঁ, এমন সূক্ষ্ম শিরকও আছে। তিনি আবু বকরকে এমন দোয়া শিখিয়েছেন, যা পড়লে সচেতন ও অজান্তে শিরক থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।
দোয়ার উচ্চারণ:
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ أَنْ أُشْرِكَ بِكَ وَأَنَا أَعْلَمُ وَأَسْتَغْفِرُكَ لِمَا لا أَعْلَمُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা ইন্নি আউজুবিকা আন উশরিকা বিকা ওয়া আনা আ’লামু ওয়া আসতাগফিরুকা লিমা লা আ’লামু।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি সজ্ঞানে আপনার সঙ্গে শিরক করা থেকে আপনার কাছে আশ্রয় চাই এবং যা আমার অজান্তে কোনো শিরক হয়ে গেছে, তার জন্য ক্ষমা চাই। (ইবনুস সুন্নী)
কোরআনে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর সঙ্গে শরীক করা ক্ষমা করবেন না, অন্য সব পাপকে তিনি ইচ্ছা করলে ক্ষমা করেন। শিরককারীর জন্য জান্নাত হারাম এবং তার ঠিকানা হবে জাহান্নাম। (সুরা নিসা : ৪৮, সুরা মায়েদা: ৭২)
আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) বলেন, আমি নবীজিকে (সা.) জিজ্ঞেস করলাম, আল্লাহর কাছে সবচেয়ে গুরুতর পাপ কী? তিনি বললেন, সবচেয়ে কঠিন পাপ হলো আল্লাহর সমকক্ষ বানানো, অথচ তিনি তোমাকে সৃষ্টি করেছেন। (সহিহ বুখারি: ২৪৯৭)
আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, কবিরা গুনাহের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ চারটি হলো: ১. আল্লাহর সঙ্গে শরীক করা, ২. অন্যায়ভাবে কারো হত্যা করা, ৩. পিতা-মাতার অবাধ্য হওয়া, ৪. মিথ্যা বলা বা মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়া। (সহিহ বুখারি: ৬৮৭১)
সিএ/এমআর


