রাশিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট এবং বর্তমানে নিরাপত্তা পরিষদের ডেপুটি চেয়ারম্যান দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন, ইউক্রেনে ইউরোপীয় বা ন্যাটো সেনাদের উপস্থিতি রাশিয়া কোনোভাবেই সহ্য করবে না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ইউরোপীয় নেতারা ইউরোপে সর্বাত্মক যুদ্ধ চান। মেদভেদেভের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত হয়েছে।
মেদভেদেভ বলেন, ‘ইউরোপীয় শাসকগোষ্ঠীর বোকা নেতারা ইউরোপে যুদ্ধ চায়। হাজারবার বলা হয়েছে: রাশিয়া ইউক্রেনে কোনো ইউরোপীয় বা ন্যাটো সেনা মানবে না। কিন্তু না, ম্যাক্রোঁ এই বাজে কথা অব্যাহত রেখেছেন।’ তিনি একইসঙ্গে ইউরোপীয় শক্তির হামলার সম্ভাব্য প্রেক্ষাপট দেখানোর জন্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে পশ্চিম ইউক্রেনে হামলার ফুটেজ সংযুক্ত করেছেন।
গত মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’ সম্মেলনে ইউক্রেনে যুদ্ধবিরতি ও পরবর্তী নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা হয়। এই সম্মেলনে ইউক্রেনে সেনা পাঠানো ও প্রয়োজন হলে সামরিক ঘাঁটি নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রো, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি এই চুক্তিতে সাক্ষর করেন।
রাশিয়া শুরু থেকেই জানিয়েছে, ইউক্রেনে যেকোনো বিদেশি সামরিক উপস্থিতি তাদের জন্য সরাসরি হুমকি এবং বৈধ লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। এদিকে হামলা পাল্টা হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইউক্রেনের বিভিন্ন এলাকায় রাশিয়ার বোমা হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন। ইউক্রেনের পাল্টা হামলায় দুই রাশিয়ান নাগরিক আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জরুরি পরিষেবা বিভাগ জানিয়েছে, দেনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ বোমাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় ৬৮ বছর বয়সী একজন নিহত হয়েছেন, আরও তিনজন আহত হয়েছেন এবং আবাসিক ভবনে আগুন লেগেছে। দোনেৎস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার গোলাবর্ষণে একজন নিহত হয়েছেন। এছাড়া দোনেৎস্কের ক্রামাতোরস্ক, ইয়ারোভা, কোস্টিয়াননিভকা ও স্লোভিয়ানস্ক এলাকায় আরও তিনজন নিহত ও নয়জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, শনিবার ১৩৯টি যুদ্ধ সংঘর্ষ হয়েছে। রাশিয়া ৩৩টি বিমান হামলা চালিয়েছে, ৪৪৩০টিরও বেশি ড্রোন ছুড়েছে এবং ইউক্রেনীয় সেনা ও বসতিতে ২৮৩০টি আক্রমণ চালানো হয়েছে। ডিপস্টেট অনুসারে, রাশিয়ার বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলের মার্কোভ ও ক্লেবান-বাইক গ্রামের দিকে অগ্রসর হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) রাতে লভিভে হাইপারসনিক ‘ওরেশনিক’ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে রাশিয়া। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ডিসেম্বরের শেষের ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলার জবাবে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। এতে কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত হন, হাজারো অ্যাপার্টমেন্টে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়।
উল্লেখ্য, ইউক্রেনীয় বাহিনী রাশিয়ার ভলগোগ্রাদ অঞ্চলেও ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যার ফলে ওকটিয়াব্রস্কি জেলার একটি তেল ডিপোতে আগুন লেগেছে। রুশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রাণহানির খবর নেই এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে কাজ চলছে।
সূত্র: আন্তর্জাতিক ডেস্ক
সিএ/এসএ


